নজরবন্দি ব্যুরোঃ খতিয়ে দেখবেন দিনহাটা রিপোর্ট, আজই কোচবিহারে বিবেক দুবে। ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতীক হিংসা। সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিচ্ছে সব দল। নিজেদের সবকিছু জনগনের সামনে জাহির করছেন নেতা মন্ত্রীরা তাঁদের ভাষণের মাধ্যমে। এলাকায় কাজ করছেন সাধারণ কর্মীরা। এই পরিস্থিতে কদিন আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিনহাটা। বুধবার দিনহাটার বিজেপি নেতার রহস্য মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে দিনহাটা বিজেপির শহর মন্ডল সভাপতি অমিত সরকারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। বয়স ৫০ বছর।
আরও পড়ুনঃ প্রতিচ্ছবি দিনহাটার, শালবনির জঙ্গলে উদ্ধার বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ।
বিজেপি কার্যালয়ের পাশে পশু চিকিৎসালয়ের বারান্দায় অমিতের ঝুলন্ত দেহ লক্ষ্য করেন প্রাতঃভ্রমণকারীরা। তারপর সেখানে জড়ো হন স্থানীয়রা। বিজেপির অভিযোগ ছিল, অমিত সরকারকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে। ঘটনা স্থলে পুলিশ এলে তাদের কাজে বাঁধা দেওয়া হয়। পুলিশকে মৃতদেহ উদ্ধার করতে বাধা দেয় বিজেপি কর্মীরা। পরবর্তী সময়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতন্তের জন্য পাঠায়। শহর মন্ডল সভাপতির মৃত্যুর ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা।
বিজেপি নেতা অশোক মণ্ডল সেদিনই জানিয়েছিলেন, গতকাল মঙ্গলবার একটি নির্বাচনী সভা ছিল। তারপরই খুন করা হয়েছে অমিতকে। তার দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এবং তার পা দুটি মাটিতে ছুঁয়েছিল।স্বাভাবিক ভাবেই মনে করা হচ্ছে যে তাঁকে খুন করা হয়েছে। অশোক মণ্ডল বলেছিলেনবলেন এই কাজ তৃণমূল করেছে। এবিষয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতীম রায় দাবী করেছিলেন, “যে বা যাঁরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তাঁরা কি কোনও তৃণমূল নেতাকে খুন করতে দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন, তাহলে এসমস্ত কথা বলে কোনও লাভ নেই। এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা। তাঁরা এই ঘটনার তদন্ত করে দেখুক।”
সূত্রের খবর দিনহাটা আসনের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের হয়ে প্রচার করতেন অমিত সরকার। তিনি ঘটনার পরেই দাবী করেছিলেন, পরিকল্পনামাফিক তৃণমূল খুন করেছে অমিত সরকারকে। সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দলের বিরুদ্ধ ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ। ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির যোগ রয়েছে বলেই দাবি তাঁর। তাঁর মতে, “আমি খবর পেয়েছি গতকাল রাতে নিশীথ প্রামাণিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন অমিতবাবু। সেখানে ওঁকে অপমান করা হয়েছিল। অনেক রাতে বাড়ি ফেরেন। তারপর একজন ডেকে নিয়ে যায় তাঁকে। এরপর উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেহ।” উদয়ন গুহর দাবি, এই ঘটনায় কোনওভাবেই তৃণমূলের হাত নেই। সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
খতিয়ে দেখবেন দিনহাটা রিপোর্ট, আজই কোচবিহারে বিবেক দুবে। দিনহাটা-কাণ্ডের জেরে ইতিমধ্যেই কোচবিহারের পুলিশ সুপার কে কান্ননকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে দেবাশিস ধরকে। ঘটনা স্থলে পাওয়া গেছে সুইসাইড নোট, তাতে যাঁদের নাম উল্লেখ রয়েছে, অমিতের মৃত্যুতে তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছে বিজেপি কর্মীরা। আদৌ আত্মহত্যা নাকি খুন, ঘটনার পড়ে উত্তপ্ত দিনহাটার পর্যবেক্ষনের জন্য বসেছিল কমিশনের বেঞ্চ। এবার পর্যবেক্ষণে আজই দিনহাটায় যাচ্ছেন রাজ্য পুলিশের বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে। পর্যালোচনা করবেন পরিস্থিতির।



