নজরবন্দি ব্যুরো: প্রতীক্ষার অবসান। দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থেকে ৭০ জন প্রেমদিবসের দিনে চার হাত এক করলেন সকলেই। এবারের গণবিবাহের অনুষ্ঠানটি দশম তম বর্ষে পড়েছে। দশ বছর আগে প্রথম গণবিবাহের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। গত বছরে ১৭৪ জন যুগলের বিয়ে হলেও এবারের সংখ্যাটা খুবই নগণ্য। সৌজন্যে কোভিড। তাই এবারে করোনার কথা ভেবে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে গণবিবাহের অনুষ্ঠান করা হয়েছে। ২০২০ সালে ১৭৪ জন দাম্পত্য জীবন শুরু করলেও।
আরও পড়ুনঃ সবই আধ্যাত্মিক যোগের ফল! মিঠুনের বাড়িতে RSS প্রধান মোহন ভগবত।
২০২১ সালে সেই যুগলের সংখ্যাটা এসে আজ দাঁড়িয়েছে ৭০-এ। আজকের এই প্রেমদিবসের দিনে শুভ অনুষ্ঠানের পুরোভাগে ছিলেন কলকাতা কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের পৌরসমন্বয়কারী গৌতম হালদার। সামাজিক সংগঠন আলোয় ফেরার সম্পাদক ও তথা কলকাতা কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের পৌরসমন্বয়কারী গৌতম বাবুর উদ্যোগে প্রতি বছরই এই গণবিবাহের অনুষ্ঠান করা হয়। তাই গৌতম বাবুর উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় আজকের এই শুভ অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন হয়।
আজকের এই শুভ অনুষ্ঠানে এক অভিনব কায়দায় আসন্ন নির্বাচনের গণসমীক্ষা করা হয়। গণসমীক্ষা করা হয় এই কারণেই যে একুশের নির্বাচনের আগে কোন কোন রাজনৈতিক দলগুলিকে এই পাত্র পাত্রীরা কতটা বিপুল ভোটে এই দলগুলিকে জয়যুক্ত করতে পারে। তবে গণসমীক্ষা করা হলেও এখনও ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগে ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করা হল তৃণমূল কংগ্রেসকে। আর বাকি দুই দল বিজেপি ও সিপিএম-কংগ্রেস জোটের ফলাফল কম।
কলকাতা পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরসমন্বয়কারী গৌতম হালদারের উদ্যোগে টালা পার্কের মোহিত মৈত্র মঞ্চ থেকে একটু এগিয়ে এক বিশাল মাঠে গণবিবাহের আয়োজন করা হয় রবিবার। সেখানে দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, হাওড়া, বীরভূম থেকে পাত্র-পাত্রীদের নিয়ে এসে গণবিবাহ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু সেই বিয়ের আগেই ব্যালট পেপারে ভোট দিলেন নবদম্পতিরা। ৭০ জন দম্পতি ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন। প্রতীকী ব্যালটবক্সে নিজেদের মতামত জানালেন। ঘোষণা হল ভোটের ফলও। এই ভোটের ফল বলছে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৫৪, বিজেপি ১০, বাম কংগ্রেস জোট ৬টি ভোট পেয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, লোকসভার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী মদন মিত্র, কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, দক্ষিণ দমদম পৌরসভার পৌরসমন্বয়কারী প্রবীর পাল, কলকাতা কর্পোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ডের পৌরসমন্বয়কারী পার্থ মিত্র, উত্তর কলকাতার তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অনিন্দ্যকিশোর রাউত ও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরাও।
মঞ্চে মদন মিত্র ‘ও লাভলি’ গান শুরু করে শেষ করলেন এক অভিনব চমক দিয়ে।অভিনব চমকে ভোটের ফল ঘোষণা করে মঞ্চ থেকে মদন মিত্র বললেন খেলা হবে কি খেলা হয়ে গেল। গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল এলাহি আয়োজন। এই অনুষ্ঠানে নবদম্পতিদেরকে দেওয়া হল সাইকেল, খাট, সেলাই মেশিন, আলমারি, সোনার কানের দুল, হীরের নাকছাবি, হাত ঘড়ি থেকে ঘর সাজানো সামগ্রী। আর খাবারের মেনুতে মাছ মাংস সহ একাধিক লোভনীয় পদ রাখা হয়েছিল।
গণবিবাহ হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, সাঁওতাল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাত্র পাত্রীর সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। গণবিবাহ সম্পন্ন করার জন্য পুরোহিত মৌলানা ফাদার ছিলেন। ভালোবাসার আজকের বিশেষ দিনে ব্যালট পেপার হাতে নিয়ে ফটোশ্যুটও হল অনুষ্ঠানে। তেমনই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক প্রকল্প কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, বিভিন্ন প্রকল্প গৌতম বাবু গণবিবাহের অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন।



