Shraddha Walkar Murder Case: প্রেমিকার কাটা মাথার জন্য দামী প্রসাধনী, রাতে চুম্বন থেকে চড়,কেমন কাটত আফতাবের সময়?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ খুনের পর থেকেই কার্যত মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছিলেন দিল্লির ডেক্সটার আফতাব। প্রেমিকার কাটা মাথার জন্য দামী প্রসাধনী, দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে প্রেমিকার দেহের টুকরো গুলি শহরের নানা প্রান্তে ফেলে এসেছিলেন। কিন্তু প্রেমিকার কাটা মাথার প্রতি ছিল আলদা অনুভুতি। প্রেমিকার কাটা মাথার জন্য আন টেন দামী প্রসাধনী, জেরাতে এমনই সব বিস্ফোরক কথা বলেছেন বছর আঠাশের কুখ্যাত অপরাধী আফতাব।

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে বিক্ষোভে চাকরি প্রার্থীরা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি

প্রেমিকার কাটা মাথার থেকে কিছুতেই দূরে করতে পারছিলেন না নিজেকে। রোজ রাতে প্রেমিকার কাটা মুণ্ডুর সঙ্গে গল্প করতেন তিনি। মৃত প্রেমিকার জন্য এনে দিয়েছিলেন নানা দামী প্রসাধনী। রোজ রাতে চুল আঁচড়িয়ে, নিজের হাতে মেকআপ করে সাজিয়ে তুলতেন প্রেমিকার কাটা মাথা। ভোর রাত অবধি চলত গল্প। কখনও আদর করে কপালে চুম্বন করতেন তো কখনও রাগে প্রেমিকার গালে চড়ও মারতেন।

প্রেমিকার কাটা মাথার জন্য দামী প্রসাধনী, রাতে চুম্বন থেকে চড়,কেমন কাটত আফতাবের সময়?
প্রেমিকার কাটা মাথার জন্য দামী প্রসাধনী, রাতে চুম্বন থেকে চড়,কেমন কাটত আফতাবের সময়?

পুলিশের অনুমান থেকে স্পষ্ট , শ্রদ্ধাকে খুনের পর ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে একাধিক তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলেন আফতাব। যৌনবাসনা মেটাতে যখন তাঁদের ছতরপুরের বাড়িতে ডেকে আনতেন, তার আগেই শ্রদ্ধার কাটা মুন্ডু ফ্রিজে রেখে দিতেন। তাঁর শরীরের টুকরোগুলি আলমারিতে ঢুকিয়ে রাখতেন। যেখানে যেখানে শ্রদ্ধার দেহাংশ রাখতেন, সেখানে পরে সালফার হাইপোক্লোরিক অ্যাসিড দিয়ে পরিষ্কার করে দিতেন, যাতে ফরেন্সিক তদন্তের সময় কোনও প্রমাণ না মেলে। এমনকি মধ্য রাতে জলের পাম্প চালিয়ে রোজ পরিষ্কার করতেন বাকি দেহাবশেষ। যেহেতু রাতেই সে দেহ গুলো টুকরো করত তাই শব্দ আটকানোর জন্য অনেক সময় জল খুলে রাখত, এমনটাই ধারণা প্রতিবেশিদের।

তবে প্রেমিকাকে খুনের ছক কষেছিলেন ঠাণ্ডা মাথায়। রোজকার অশান্তি পছন্দ ছিল না আফতাবের। কিন্তু প্রেমিকা কে ভালবাসতেন আফতাব, ধরা পড়ার পর এমনটাই দাবী করেছিলেন আফতাব। ১৮ মে খুনের দশ দিন আগেই খুন করার কথা ভাবেন আফতাব। কিন্তু প্রেমিকার আবেগঘন মুহূর্তের কাছে হার মানেন তিনি। ৮ মে অশান্তির পর যখন একেবারে কান্নাকাটি শুরু করেন শ্রদ্ধা, তখন প্রেমিকার মুখ চেয়ে খুন করার চিন্তা থেকে সরে আসেন আফতাব। কিন্তু ১৮ তারিখ শেষ রক্ষা হয়নি। তবে প্রেমিকার ম্রৃত্যুর পর মানসিক ভারসাম্য হারাতে থাকেন আফতাব, যে কারণে প্রেমিকার মৃতদেহের সঙ্গে আরো বেশি করে সময় কাটাতে থাকেন আফতাব। শ্রদ্ধাকে খুনের অভিযোগ গত ১২ নভেম্বর আফতাবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রেমিকার কাটা মাথার জন্য দামী প্রসাধনী, রাতে কপালে চুমু  কখনও রেগে মারতেন চড়

প্রেমিকার কাটা মাথার জন্য দামী প্রসাধনী, রাতে চুম্বন থেকে চড়,কেমন কাটত আফতাবের সময়?
প্রেমিকার কাটা মাথার জন্য দামী প্রসাধনী, রাতে চুম্বন থেকে চড়,কেমন কাটত আফতাবের সময়?

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে দিল্লির মেহরৌলিতে একত্রবাসে থাকা প্রেমিকা শ্রদ্ধাকে খুন করেন তাঁর প্রেমিক আফতাব। এর পর আমেরিকার এক ওয়েব সিরিজ় থেকে ‘অনুপ্রেরণা’ নিয়ে শ্রদ্ধার মৃতদেহ ৩৫ টুকরো করে ফেলেন আফতাব। শ্রদ্ধার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার পর দিল্লি পুলিশ গত শনিবার আফতাবকে গ্রেফতার করে। বিস্তারিত তদন্তের পরই খুনি নিজে স্বীকার করছেন মারাত্মক সব বিস্ফোরক তথ্য। ছত্রপুর জঙ্গল থেকে মানবদেহের ১৩টি টুকরো ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা গিয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন