নজরবন্দি ব্যুরোঃ পরেশ চন্দ্র অধিকারী বাম আমলে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় থেকে শুরু করে তার আগে ও পরে পরেশের আত্মীয়েরা চাকরি পেয়েছেন কার্যত মুড়ি মুড়কির মত। শিক্ষার পাশাপশি খাদ্য দফতরও রয়েছে চাকরি প্রাপকদের তালিকায়। এক বা দুই নয় পরেশ অধিকারীর মোট ৩১ জন আত্মীয় চাকরি পেয়েছেন বিভিন্ন সরকারি দফতরে। সেই তালিকা প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই একই অভিযোগ উঠল রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ আবাস যোজনায় ‘প্রধানমন্ত্রী’ না থাকলে এক টাকাও নয়, নবান্নকে চিঠি কেন্দ্রের

রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে আরও একটি বড় তথ্য সামনে আনা হয়েছে সিপিআইএমের তরফে। হাইকোর্টের নির্দেশে ২৬৯ জন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সংখ্যাটা ৩০। তবে টেট পাশ চাকরিপ্রার্থীদের কথায় এ জেলায় সংখ্যাটা অনেক বেশি। দুর্নীতি অনেক গভীরে রয়েছে, সঠিক তদন্ত করলেই অনেক শিক্ষকেরই চাকরি বাতিল হবে। মত দিচ্ছে সিপিআইএম।

তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির সিকিউরিটি ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডীপুরের বাসিন্দা কলকাতা পুলিশে কর্মরত বিশ্বস্তর মণ্ডল। তাঁর ভাই এবং আত্মীয় সহ আরও ১০ জন প্রাথমিক শিক্ষক, হাই স্কুলের গ্রুপ ডি পদে চাকরি পেয়েছেন পার্থ চ্যাটার্জি শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন। বিশ্বম্ভর মণ্ডলের ভাই বংশীলাল মণ্ডল প্রাথমিক শিক্ষক, পাশাপাশি তৃণমূল পরিচালিত চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ। বিশ্বম্ভর মণ্ডলের স্ত্রী, শালিকা, শ্যালক, মাসতুতো ভাই, বোন, জামাই এমন অনেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা হাইস্কুলের গ্রুপ ডি পদে চাকরি পেয়েছেন।
একই পরিবারে ১৩ জনের চাকরি, পরেশের জুতোয় পা গলিয়েছিলেন পার্থও!

এই বিষয় নিয়ে সিপিআই (এম) পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন, “একই পরিবারের এতজন চাকরিজীবি জেলায় নজিরবিহীন। সিপিআই(এম) বরাবরই অভিযোগ করেছে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি করেছে তৃণমূল। যেখানে মেধা এবং যোগ্যতা প্রাধান্য পায়নি। আবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সংখ্যাটা অনেক বেশি। এ বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”



