নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিচারব্যবস্থা নিয়ে করা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। গতকালই এবিষয়ে মুখ্যসচিবকে এবিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এবার রাজ্যপাল জানিয়ে দিলেন ৬ জুনের মধ্যে অভিষেকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিন মুখ্যসচিব।
আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল ঘিরে বিতর্ক শুরু, হাইকোর্টে দায়ের মামলা
সোমবার ট্যুইট করে এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। অপর দিকে সোমবার সকালে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছিলেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। এদিনেই দুপুর ২টো নাগাদ শুনানি হবার কথা ছিল। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি পর্ব শেষ হবার পর বিচারকরা তা খারিজ করে দেন।

আদালত জানাল, অবমাননার মামলা করার দরকার আছে বলে আদালত মনে করছে না। অভিষেকের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, ‘‘বিচারপতিদের এক শতাংশ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? এক জন সাংসদ বলল মানেই ধরে নিতে হবে তেমন তো নয়। এক শতাংশ বলেছেন। কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তা পরিস্কার নয়। আমার তো মনে হয়, এড়িয়ে যাওয়া উচিত।’’

অপর দিকে বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, এই হাই কোর্টে ৪১ জন বিচারপতি রয়েছেন। কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে সেটা তো পরিষ্কার হওয়া দরকার। ১ শতাংশ বলে কিছু হয় না।

ঠিক কি বলেছিলেন অভিষেক? শনিবার হলদিয়ার একটি জনসভায় তিনি বলেন, আমার বলতে লজ্জা লাগে। কিন্তু বিচারব্যবস্থায় এক শতাংশ এমন আছেন, তল্পি বাহকের কাজ করছেন। কিছু হলেই সিবিআই দিয়ে দিচ্ছেন। আপনার যদি মনে হয়, এই সত্যি কথা বলার জন্য ব্যবস্থা নেবেন, ক্যামেরার সামনে দু’হাজার বার এই কথা বলব।
অভিষেকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা খারিজ হাইকোর্টে
অভিষেক আরও বলেন, খুনের মামলার তদন্ত আটকে দিচ্ছে। শুনেছেন কোনও দিন! আদালত চাইলে নিরাপত্তা দিতে পারে। আদালতের অধিকার আছে। কিন্তু খুনের মামলার তদন্ত স্থগিত করে দিতে পারেন না আপনি। অভিষেকের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়।



