নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে আরও এক ধর্ষণের ঘটনায় বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। এক রাতে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার তিনটি জায়গায় তিন নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল। এরমধ্যে ৪ বছরের একটি নাবালিকাও লালসার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার দাবিতে সরব হয়েছে বাম ও বিজেপি।
আরও পড়ুনঃ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীকে ধর্ষণ, চোপড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য


সোমবার ভোরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে (North Bengal Medical College and Hospital) মারা যায় শ্লীলতাহানির শিকার অগ্নিদগ্ধ নাবালিকা। শ্লীলতাহানির পর হুমকির মুখে পড়ে গত ১৪ এপ্রিল গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল সে। টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। রাতে তার দেহ ময়নাগুড়ি ধর্মপুর এলাকার একটি শ্মশানে দাহ করা হয়।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার রাতে ময়নাগুড়ি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পেটকাটি এলাকার এক প্রতিবন্ধী নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। আজ তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। সোমবার রাতেই জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত তোরলপাড়া এবং বেলাকোবা অঞ্চলে দুই নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে এসেছে। তোরলপাড়া এলাকার শ্লীলতাহানির শিকার নাবালিকাটির বয়স ৪ বছর বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাক্তার জয়ন্তকুমার রায়। সঙ্গে ছিলেন জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী। দুই নির্যাতিতার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য পীযূষ মিশ্র। বিজেপির জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তৃণমুল আশ্রিত হলে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা নেওয়া নিয়ে অনেকসময় টালবাহানা করছে পুলিশ। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না করার ফলে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যাচ্ছে।


তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুব তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জী। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কখনওই অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেনি। উলটে তিনি পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ময়নাগুড়ি থেকে শুরু করে সমস্ত ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করেছে। ময়নাগুড়ির ঘটনাতেও অভিযুক্তরা জেলে বিচারাধীন।
এক রাতে ৩ শ্লীলতাহানি, আতঙ্কে কাঁপছে জলপাইগুড়ি

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত সাংসদের অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আরও বেশি করে সচেতনতা প্রচার করার কথা ভাবা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে যে কজন নাবালিকার শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে, তারা সকলেই নির্যাতিতার প্রতিবেশী। তাই এই ব্যাপারে শুধু আইনী ব্যবস্থা নয়, সামাজিক সচেতনতার দরকার রয়েছে।







