নজরবন্দি ব্যুরোঃ আচমকা মাওবাদী হানায় ছত্তিশগড়ে প্রান হারাল ২২ সেনাকর্মী, আশঙ্কা আরও ক্ষয়ক্ষতির। ছত্তিশগঢ়ের বিজাপুর মাওবাদী তথা নকশালপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। সেখানেই অতর্কিত আক্রমনে প্রান হারালেন ২২ জওয়ান। শনিবার বিজাপুর জেলায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল সিআরপিএফের কোবরা ব্যাটেলিয়ন, ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। অভিযান চলাকালীনই নকশালরা প্রায় ৭০০ জওয়ানকে ঘিরে ভয়ানক হামলা চালায়।
আরও পড়ুনঃ কয়লা পাচার কাণ্ডে নয়া মোড়, গ্রেফতার বাঁকুড়া থানার আইসি।
পাহাড়ি অঞ্চলে জওয়ানদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে তারা। দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে প্রায় চার ঘন্টা। ১৫ জন মাওবাদীকে খতম করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অন্যদিকে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে এখনও পর্যন্ত ২২ জওয়ান শহিদ হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক অশোক জুনেজা বলেছেন, ‘’দু’হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে মাওবাদীদের ছোড়া গুলিতে এখনও পর্যন্ত ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। জওয়ানদের গুলিতে একাধিক মাওবাদীও খতম হয়েছে। গতকালই অভিযান চলাকালীন ৫ জন জওয়ান মারা গিয়েছিলেন। আজ সেই সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে।”
বিজাপুর-সুকমা জেলার সীমান্তে অবস্থিত জোনাগুরা নকশালদের প্রধান এলাকা। ওই এলাকায় নকশালদের ব্যাটেলিয়ান সবসময় থাকে বলে খবর পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকায় ব্যাটেলিয়ান সামলায় সুজাতা নামের একজন মহিলা মাওবাদী। এসব খবর আগে থেকেই পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকি বাহিনীর ওপর হামলা হতে পারে সেটাও আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলেন সিআরপিএফ অধিকর্তারা। সেই জন্য গোটা এলাকায় দুহাজারের বেশি জওয়ানকে নামানো হয়েছিল। কিন্তু ওই এলাকার প্রতিটি ইঞ্চি মাওবাদীদের চেনা। তাই জওয়ানদের তিন দিক থেকে ঘিরে তারা ফায়ারিং শুরু করে। এই নিয়ে ১০ দিনের মধ্যে দুবার ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর মাওবাদীরা হামলা করল। এর আগে ২৩ মার্চ মাওবাদী হামলায় পাঁচ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। নারায়ণপুরে আইইডি ব্লাস্ট করিয়ে বাহিনীর গাড়ি উড়িয়ে দিয়েছিল নকশালরা।
আচমকা মাওবাদী হানায় ছত্তিশগড়ে প্রান হারাল ২২ সেনাকর্মী, আশঙ্কা আরও ক্ষয়ক্ষতির। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে দুঃখপ্রকাশ করে লিখেছেন “ছত্তিশগঢের শহিদ জাওয়ানদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ, পরিবারের প্রতি সমবেদনা। বীরদের আত্মবলিদান কখনও ব্যর্থ হবে না। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শহিদ জাওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে ছত্তিশগঢের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেন্দ্রের তরফে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। জানানো হয়েছে, নিহত ও আহত জওয়ানদের সবরকম সাহায্য করবে কেন্দ্র-রাজ্য।”



