নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুদ্রাস্ফীতি নাগালের বাইরে। ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। কার্যত পুড়ে ছাই বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডার। তবে শুধু এই দ্বীপরাষ্ট্রই নয়, বিশ্বের আরও কিছু দেশ এখন বিদেশি মুদ্রা সংকটের চরম স্তরে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে আছে আর্জেন্টিনা, ইউক্রেন, তিউনিসিয়া, ঘানা, ইজিপ্ট, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, এল সালভাদোর, পাকিস্তান, বেলারুশ।
আরও পড়ুনঃ CPIM: স্বাধীনতার ৭৫ বছর, এবার অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে বামেরা
এই দেশ গুলির অবস্থা চোখে জল এনে দেবার মতো। এক হাজার বেসিস পয়েন্ট বন্ডের ঊর্ধ্বসীমা ছাড়ানোর পর ঋণের পরিমাণ এখন ৪০ হাজার কোটি ডলার। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঋণ আর্জেন্টিনার, ১৫ হাজার কোটি ডলার। এর পরেই রয়েছে ইকুয়েডর এবং মিশর। দুই দেশের ঋণের পরিমাণ যথাক্রমে ৪ হাজার কোটি ডলার এবং সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলার।

রাশিয়ার আগ্রাসনে কার্যত ভেঙে পড়েছে ইউক্রেনের অর্থনীতি। ইউক্রেনকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার শোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন জেপি মর্গ্যান। ইউক্রেনে সংকট আসে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। অপর দিকে ঘানাও ঋণ সমস্যায় জর্জরিত। ঘানার জিডিপি ও ঋণের অনুপাত ৮৫ শতাংশ। এমনকি চলতি বছরে দেশটির মুদ্রা CEDI-র দামে এক চতুর্থাংশ পতন হয়।

ঘানার মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৩০ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে। পাকিস্তান এই সপ্তাহে আইএমএফের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। আইএমএফ-র কাছে বড় অঙ্কের ঋণ চেয়েছে শাহবাজ শরিফের দেশ। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৯.৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা মাত্র পাঁচ সপ্তাহের আমদানি করা যাবে।

পাকিস্তানের টাকার মূল্যও রেকর্ড পরিমাণে দুর্বল হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানের রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ সুদ মেটাতেই ব্যয় হয়। এই অবস্থা বাকি দেশ গুলিরও। কিন্তু এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যায় কীভাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু এখনও নিজের ঋণের দায় কমাতে পারে। তবে তার জন্য যে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচেষ্টা যথেষ্ট, সেটাও নয়।

শুধু শ্রীলঙ্কা না, বিশ্বের প্রায় ১ ডজন দেশ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে!
সংকট এড়ানোর জন্য দরকার আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতা। সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর আর্থিক সহযোগিতা। লাল-সতর্কতার আশেপাশে ঘোরাফেরা করা অর্থনীতির দেশগুলি তা হলেই হয়তো বড়োসড়ো ঝুঁকি এড়াতে পারে।



