জুবিন গর্গের জন্মদিনে অশ্রুভেজা পোস্ট স্ত্রীর, গরিমার হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ

প্রয়াণের পর প্রথম জন্মদিনে গায়ক জুবিন গর্গকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া। অদেখা ছবিতে ভেসে উঠল তাঁদের যৌথ জীবনের আবেগময় মুহূর্ত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অসমের কিংবদন্তি গায়ক জুবিন গর্গের জন্মদিন। কিন্তু এ বছর দিনটি নিয়ে কোনও উৎসব নেই, নেই জীবন্ত হাসি-খুশির জয়ধ্বনি। কারণ, এটাই তাঁর প্রয়াণের পর প্রথম জন্মদিন। মাত্র ৫২ বছর বয়সে গায়কের অকস্মাৎ মৃত্যু এখনও অসমবাসী থেকে শুরু করে গোটা সংগীতজগৎকে শূন্যতায় ডুবিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে তাঁর স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া—যিনি এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

জুবিন গর্গের জন্মদিনে ভাঙা হৃদয়ে স্মৃতির দরজা খুলে দিলেন গরিমা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একগুচ্ছ অদেখা ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “জন্মজন্মান্তরে আমি আমাদের কাহিনী লিখে যাব। ভালো থেকো জুবিন।” মাত্র কয়েকটি শব্দেই যেন ফুটে উঠল তাঁদের বহু বছরের সম্পর্ক, সঙ্গ, ভালোবাসা এবং অপার শূন্যতা।

শুধু স্ত্রী নয়, ছিলেন তাঁর বন্ধু, সহযোদ্ধা, প্রতিটি সাফল্য এবং ব্যর্থতার নীরব সাক্ষী। জুবিনের শেষ সিনেমা ‘রই রই বিনালে’ মুক্তির আগে—স্বামীকে হারানোর গভীর শোক নিয়েই দিনরাত কাজ করে সিনেমাটিকে দর্শকের সামনে নিয়ে আসেন গরিমা। তখন অসমজুড়ে চলছিল গায়কের মৃত্যুর বিচার দাবিতে আন্দোলন। সেই চাপের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তবুও কাজ থামাননি।

এদিন গায়ককে স্মরণ করলেন সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও। তাঁর পোস্টে লেখা, “শুভ জন্মদিন আমার প্রিয় বন্ধু। কিছু মানুষ কখনও আমাদের ছেড়ে যান না, সুর হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। তুমি তাদেরই একজন।”

গায়ককে নিয়ে এমন আবেগঘন বার্তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল—জুবিনের আকস্মিক চলে যাওয়া সংগীতজগতে যে কত বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।

জুবিন গর্গের মৃত্যু নিয়ে এখনও রহস্য কাটেনি।
মাস কয়েক আগে সিঙ্গাপুরে নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন তিনি। পরদিনই মঞ্চে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে ঘটে যায় বিপর্যয়। সূত্রের দাবি, স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাঁর। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।

এই মৃত্যু ঘিরে অসমে এখনও চলছে প্রশ্নের ঝড়। অনেকেই নিশ্চিত নন, সত্যিই এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কিছু। তদন্ত চলছে, পরিবারও স্পষ্ট উত্তর আশা করছে।

আজ তাঁর জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়া ভরে উঠেছে হাজারো শুভেচ্ছা, স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধার বার্তায়। কিন্তু সবকিছুর ওপরে—গরিমার সেই অদেখা ছবিগুলি এবং গভীর শূন্যতার শব্দহীন কান্নাই যেন সবচেয়ে বেশি নাড়া দিল মনকে।

অসমের ‘রকস্টার’ জুবিন গর্গ নেই, কিন্তু রয়ে গেল তাঁর অনন্ত স্মৃতি, সুর এবং মানুষের ভালোবাসা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত