বছরের এই সময়টায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে যে শীতের আমেজ ধীরে ধীরে নেমে আসার কথা, তা ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে। সকালে মর্নিং ওয়াক, হাতে পাতলা শাল, আর সন্ধের সময় হালকা ঠান্ডা—সবই যেন আচমকাই থমকে গেছে। সেই থমকে যাওয়া আবহের পেছনে রয়েছে পুবের আর্দ্র হাওয়া ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সম্মিলিত চাপ। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, এই দুইয়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে শীতের স্বাদ আগামী কয়েকদিন উধাও থাকবে, আর তাপমাত্রা উল্টে খানিকটা বেড়ে যেতে পারে।
আজ এবং আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের উপর আধিপত্য বিস্তার করবে পুবের স্যাঁতস্যাঁতে হাওয়া। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়বে, ফলে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি করে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের শুরুতে পুবের হাওয়া যতটা ক্ষতিকর, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তার থেকেও বেশি শীতের আগমনকে আটকে দেয়। এই দুইয়ের সংঘাতে শীতের আমেজ কার্যত মুছে যেতে বসেছে।
Weather Update: পুবের হাওয়া–পশ্চিমী ঝঞ্ঝার চাপে শীত উধাও: বাংলায় বাড়ছে তাপমাত্রা
উত্তর ভারতে তৈরি হওয়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ঝঞ্ঝার জেরে ২০ নভেম্বর থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে শীতল বায়ুর প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। অর্থাৎ, যে ঠান্ডা-হাওয়া বাংলায় নামার কথা ছিল, তা আটকে পড়বে পথেই। এর ফলে আগামী কয়েকদিন আর তেমনভাবে শীত নামার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। এমনকি সিকিম-সহ উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

শুধু তাই নয়, বঙ্গোপসাগর আবারও সক্রিয় হওয়ার পথে। সপ্তাহান্তে সেখানে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা পরে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। নতুন এই নিম্নচাপ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াকে আরও আর্দ্র করে তুলতে পারে। নভেম্বরের শেষ ভাগে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী ছ’টি জেলায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এতে তাপমাত্রা আরও বাড়বে, আর শীতের স্বস্তি আরও কয়েক ধাপ পিছিয়ে যাবে।
সব মিলিয়ে নভেম্বরের শেষ লগ্নে শীতের দাপট অনুভব করার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কেটে গেলেও নতুন নিম্নচাপের দোসর পরিস্থিতিকে বারবার ঘুরিয়ে দিচ্ছে। নবেম্বরের শীত নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা তাই খানিকটা হতাশায় ডুবেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলায় প্রকৃত শীত নামতে এখনো অন্তত দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতেই হবে।
ইতিমধ্যেই এর প্রমাণ দেখা যাচ্ছে কলকাতার তাপমাত্রায়। মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ ডিগ্রি। আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাস দিচ্ছে, শুক্রবারের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে—যা স্পষ্টভাবে শীতের সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
শীতের আমেজ ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা মানুষদের তাই আপাতত অপেক্ষায় থাকতে হবে। পুবের হাওয়া, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং নতুন নিম্নচাপ মিলিয়ে শীতকে পুরোপুরি ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বিদায় করছে। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ আগামী কয়েকদিন রীতিমতো উষ্ণ থাকবে বলেই স্পষ্ট।







