রাজ্যে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ নিয়ে অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ আগেই জানিয়েছিল, মোট ১৩,৪২১টি শূন্যপদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। এবার সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াই শুরু হচ্ছে বুধবার, ১৯ নভেম্বর থেকে। পর্ষদের ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে, TET উত্তীর্ণ যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত ও সরকার পৃষ্ঠপোষকতা-প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জুনিয়র বেসিক বিদ্যালয়গুলিতে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন।
এ বছর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ প্রক্রিয়াকে ঘিরে শিক্ষা দপ্তরও জানিয়েছে বড় ঘোষণা। দপ্তরের দাবি, চলতি বছরেই SSC-সহ বিভিন্ন স্তরে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করা হবে। স্বচ্ছ, ডিজিটাল এবং মানসম্মত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই রাজ্য এবার শিক্ষক সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরেই প্রকাশিত হয়েছিল শূন্যপদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল নিয়োগে মোট মূল্যায়ন করা হবে ৫০ নম্বরের উপর, যার মধ্যেই সংযুক্ত থাকবে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রশিক্ষণ, টেট, সহপাঠ কার্যকলাপ, সাক্ষাৎকার এবং অ্যাপটিটিউড টেস্টের নম্বর।
শিক্ষা দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকছে ৫ নম্বর। উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য ১০ নম্বর। NCTE অনুমোদিত প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রার্থীরা পাবেন ১৫ নম্বর। টেটের জন্য রয়েছে ৫ নম্বর মূল্যায়ন। সহপাঠ কার্যকলাপ, অর্থাৎ extra-curricular activities-এর জন্য থাকবে আরও ৫ নম্বর। আবেদনকারীর সামগ্রিক যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য সাক্ষাৎকারে থাকবে ৫ নম্বর।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এ অ্যাপটিটিউড টেস্টের ৫ নম্বর একটি বিশেষ ছাড়ের সঙ্গেই সংযুক্ত। কর্তব্যরত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্যারা-টিচারদের ক্ষেত্রে এই ৫ নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে, আলাদা পরীক্ষায় বসতে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শিক্ষকদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি রাজ্যের শিক্ষা নীতি অনুযায়ীই বজায় রাখা হয়েছে বলে পর্ষদ জানিয়েছে।
বয়সসীমা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পর্ষদ। ১ জানুয়ারি ২০২৫-এর নিরিখে আবেদনকারীর বয়স ৪০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। রাজ্যের নিয়োগ নীতিমালা অনুসারে এই বয়সসীমা বজায় রাখতেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া আবেদন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় TET উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। বহুদিনের অপেক্ষা এবং একাধিক দফার নোটিশের পর অবশেষে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কার্যকর হওয়ার ফলে প্রত্যাশিত প্রার্থীরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ এবার পুরোপুরি অনলাইন-ভিত্তিক হওয়ায় প্রার্থীদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ ও স্বচ্ছ হবে, এমনটাই জানাচ্ছে শিক্ষা দপ্তর। আপলোডের সুবিধা, নথি যাচাই, নম্বর বরাদ্দ এবং পরবর্তী সাক্ষাৎকার—সবটাই ডিজিটাল পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, দ্রুততার সঙ্গে প্রচুর শূন্যপদ পূরণ করে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন করা।
নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, নম্বর বরাদ্দের নিয়ম এবং আবেদনকারীর বয়সসীমা স্পষ্ট হওয়ায় এখন কেবল শুরু হওয়ার অপেক্ষা। রাজ্যের লক্ষাধিক যোগ্য প্রার্থী বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাতে পারবেন এই বৃহৎ নিয়োগ উদ্যোগে।







