অ্যাডিলেড—যে মাঠে বিরাট কোহলির সাফল্যের গল্প একসময় রচিত হয়েছিল, সেই মাঠেই আজ তাঁর ব্যর্থতার ছাপ আরও গাঢ়। পারথের পর অ্যাডিলেড ওয়ানডেতেও শূন্য রানে আউট হলেন ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার। ফলে ফের প্রশ্ন উঠছে—কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন কি কোহলি?
আজ ২৩ অক্টোবর। এই তারিখ একসময় বিরাটের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক ছিল। কিন্তু সময়ের পালাবদলে ভাগ্যও যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাঁর দিক থেকে। কেরিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রান তাঁকে ফেলেছে গভীর সংকটে।
অ্যাডিলেড, যা ছিল পয়া মাঠ
২০১২ সালে প্রথমবার অ্যাডিলেডেই নিজের ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন বিরাট কোহলি। সেই শুরু থেকে এই মাঠে সব ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি। ভারতীয় ক্রিকেটারের মধ্যে অ্যাডিলেডে সর্বাধিক রানও তাঁর। এখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর অধিনায়কত্বের অধ্যায়।
তবে যে মাঠ একসময় সাফল্যের প্রতীক ছিল, আজ সেটাই যেন তাঁর সংগ্রামের সাক্ষী। শেষবার অ্যাডিলেডে ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি সেঞ্চুরি করে। তাই আজকের ম্যাচে তাঁর থেকে প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেঙে চুরমার হল মাত্র চার বলের ইনিংসে।
চাপের পাহাড়ে কোহলি, আত্মবিশ্বাসে ফাটল
পারথের ম্যাচে বিরাট আটটি বল খেলেও রান পাননি। সেদিন থেকেই তাঁর ব্যাটে ছিল অনিশ্চয়তার ছাপ। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আউট হয়েছিলেন। অ্যাডিলেডে এসে ছবিটা বদলাল না।
আজও দেখা গেল প্রথম তিন বলেই আত্মবিশ্বাসের অভাব, এবং চতুর্থ বলেই তরুণ পেসার বার্টলেটের ইনসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হলেন। এভাবেই দ্বিতীয় ম্যাচেও শূন্য। ফলত চলতি সিরিজে তাঁর সংগ্রহ—শূন্য।
ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
২০২৭ বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বোর্ড সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই তিন ম্যাচের সিরিজে তাঁর পারফরম্যান্সের উপরই অনেকটা নির্ভর করছিল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচেই শূন্য রানের ব্যর্থতা তাঁর অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।
ভারতীয় দলে কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন। এই ব্যর্থতা শুধু একটি ইনিংস নয়, হয়তো একটি যুগের অবসানের ইঙ্গিতও হতে পারে।
অ্যাডিলেডে দর্শকদের করতালি, শেষের ইঙ্গিত?
বিরাট যখন প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটছিলেন, অ্যাডিলেডের দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে সম্মান জানালেন তাঁকে। সাধারণত এমন করতালি তাঁরা দেন কেবল সেই সব ক্রিকেটারদের, যাঁরা তাঁদের কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। বিরাটও সেদিনের মতো হাত তুলে গ্রহণ করলেন সেই সংবর্ধনা—যেন নীরবে মেনে নিলেন সময়ের ডাকে সাড়া।
সমালোচনার মুখে কিং কোহলি
সমালোচকরা বলছেন, বয়সের ভার, ফিটনেস ও ফর্ম—সবকিছুই এখন একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বিরাটের সামনে। তবে ভক্তরা এখনো আশা ছাড়েননি। তাঁদের বিশ্বাস, “কোহলি মানেই কামব্যাক।” কিন্তু সেই কামব্যাক কবে, তা সময়ই বলবে।
সারসংক্ষেপ:
পারথের পর অ্যাডিলেডেও শূন্য। টানা ব্যর্থতায় প্রশ্নের মুখে বিরাট কোহলির কেরিয়ার। যে মাঠ একসময় তাঁকে কিংবদন্তি বানিয়েছিল, সেই মাঠেই আজ তাঁকে মনে করিয়ে দিল সময়ের নিষ্ঠুর নিয়ম—সব অধ্যায়েরই একদিন শেষ হয়। তবু কোটি ভক্তের আশা, এখনও হয়তো শেষ হয়নি কিং কোহলির গল্প।



