দেহরাদুন: দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যখন পড়ুয়াদের আন্দোলন তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠল উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand)। এ বার অভিযোগের তিরে ক্ষতবিক্ষত দেহরাদূনের (Dehradun) বীর মাধো সিংহ ভান্ডারী উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির (Veer Madho Singh Bhandari Uttarakhand Technical University) একটি সেমেস্টার পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তে নেমে দু’টি পত্রের প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পেয়ে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করেছে। অগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে ফের ওই পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, গত ৮ জুলাই ‘মেশিন লার্নিং ফর ইন্টারনেট অফ থিংস’ (Machine Learning for Internet of Things) এবং ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থিয়োরি’ (Electromagnetic Field Theory)— এই দু’টি বিষয়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে জানা যায়, বাইরে থেকে যে অধ্যাপক প্রশ্ন করেছিলেন, তিনিই হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) মাধ্যমে প্রায় ৫০টি প্রশ্ন পড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরীক্ষার সময় দেখা যায়, হুবহু একই প্রশ্ন এসেছে। ১০ জুলাই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে এবং ১৩ জুলাই রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর ওই প্রশ্নকর্তা অধ্যাপককে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সাত বছর তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনও কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক ভিকে পটেল (VK Patel) জানিয়েছেন, ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পরই কর্তৃপক্ষ নড়ে বসে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দু’টি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, “বাতিল হওয়া পরীক্ষা ২০২৬ সালের অগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফের নেওয়া হবে। সকল প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়।”
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়টির আওতায় মোট ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর আগেও উত্তরাখণ্ডে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি কমিশনের একটি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। ২০২৩ সালে ইউকেপিএসসি (UKPSC) পটোয়ারি ও অ্যাকাউন্ট্যান্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছিল। তার পরই বিজেপি (BJP) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এ ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন প্রণয়ন করে।



