প্রয়াত উত্তমকুমারের সহ-অভিনেতা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বর্ষীয়ান এই অভিনেতা রবিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি—ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড থেকে শুরু করে একাধিক জটিল অসুখ তাঁকে বিছানায় শয্যাশায়ী করে রেখেছিল। হাসপাতালেই শেষ কয়েক মাস কাটিয়েছিলেন শিল্পী। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউড মহলে।
আর্টিস্ট ফোরামের তরফে সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিগন্ত বাগচী জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে রাখা হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অভিনয় থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন বহুদিন আগে। তবু তাঁর প্রয়াণ যে শিল্প জগতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল, সে কথা স্বীকার করছেন সবাই।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। রাতেই হাসপাতাল থেকে সরাসরি কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণবাবুর মরদেহ। সেখানেই সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য। শিল্পীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র ও ছোটপর্দার বহু তারকা।
পুণে ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে অভিনয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম ছবি ছিল তপন সিংহের ‘আপনজন’। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর দীর্ঘ অভিনয়যাত্রা। পরবর্তীতে তিনি অভিনয় করেন ‘সাগিনা মাহাতো’, ‘ধন্যি মেয়ে’-সহ চার শতাধিক ছবিতে। তাঁর অন্যতম শক্তি ছিল স্বাভাবিক অভিনয়, সংলাপ বলার নিজস্ব ধরণ এবং চরিত্রের গভীরে পৌঁছনোর ক্ষমতা। পরিচালক তপন সিংহ এবং অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের প্রিয় অভিনেতাদের তালিকায় তিনি ছিলেন অন্যতম।
সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়, যা তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়। তাঁর সহ-অভিনেতাদের মধ্যে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, সন্তু মুখোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে—বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা সময়ের শিল্পীরা।
শুধু বড়পর্দাই নয়, ছোটপর্দাতেও তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন। ধারাবাহিক, টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজ—সব জায়গায়ই নিজের উপস্থিতি জানিয়ে গিয়েছেন। সুজয় ঘোষ পরিচালিত হিন্দি ছবি ‘কহানি’য়ও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি অভিনয় করেন জনপ্রিয় সিরিজ ‘তানসেনের তানপুরা’-তে।
শিল্পীর প্রয়াণে টলিউড শোকস্তব্ধ। তরুণ থেকে বর্ষীয়ান—সব প্রজন্মের অভিনেতাই তাঁর কাজ, ব্যক্তিত্ব এবং সহজ-সরল স্বভাবের কথা স্মরণ করছেন। তিনি ছিলেন এক অনন্য চরিত্রাভিনেতা, যাঁর উপস্থিতি বাংলা সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছে দশক ধরে।







