উমিদ পোর্টালে ৫.১৭ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কত? জানুন বিস্তারিত

কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রকের তথ্য: উমিদ পোর্টালে নথিভুক্ত ৫.১৭ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তির মধ্যে অনুমোদন মিলেছে ২.১৬ লক্ষে। পশ্চিমবঙ্গেও জমা পড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তথ্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক প্রকাশ করল ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তিকরণ সম্পর্কে নতুন পরিসংখ্যান। ছ’মাসের মধ্যে উমিদ পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তির কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। মোট ৫ লক্ষ ১৭ হাজার ৪০টি সম্পত্তি ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কেন্দ্রের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে, যেটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। নথিভুক্ত সম্পত্তির পরিমাণ, অনুমোদনের হার এবং রাজ্যভিত্তিক ভাগ দেখে স্পষ্ট—ভারতের ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় এটি বড় পরিবর্তনের দিকচিহ্ন।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, নথিভুক্ত হওয়া উমিদ পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তি-র মধ্যে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৯০৫টি সম্পত্তি ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। বাকি অংশ অর্থাৎ ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৪১টি আবেদন এখনও যাচাইয়ের অপেক্ষায়। তথ্য পর্যালোচনার পরে বাতিল করা হয়েছে ১০ হাজার ৮৬৯টি সম্পত্তির আবেদন। মন্ত্রকের বক্তব্য—যাচাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া সম্পত্তির প্রকৃত আইনি স্বত্ব নিশ্চিত করতেই।

উমিদ পোর্টালে ৫.১৭ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কত? জানুন বিস্তারিত

রাজ্যভিত্তিক তথ্যও বেশ নজরকাড়া। সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি এসেছে উত্তরপ্রদেশ থেকে—৯২,৮৩০টি আবেদন, যার মধ্যে ৮৬,৩৪৫টি সুন্নি এবং ৬৪৮৫টি শিয়া ওয়াকফ সম্পত্তি। দ্বিতীয় স্থানে মহারাষ্ট্র, যেখানে ৬২,৯৩৯টি সম্পত্তি নথিভুক্ত হয়েছে। কর্নাটক রয়েছে তৃতীয় স্থানে—৫৮,৩২৮টি সম্পত্তি জমা পড়েছে এই পোর্টালে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে নথিভুক্ত হয়েছে ২৩,০৮৬টি উমিদ পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তি, যা দেশের সামগ্রিক তালিকায় উল্লেখযোগ্য।

উমিদ পোর্টালে ৫.১৭ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কত? জানুন বিস্তারিত
উমিদ পোর্টালে ৫.১৭ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কত? জানুন বিস্তারিত

এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিত্তি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। আদালত জানায়, ওয়াকফ সম্পত্তির সঠিক তালিকা রাখতে হলে কেন্দ্রীয় পোর্টালে ডিজিটাল নথিভুক্তিকরণ প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী গত ৬ জুন চালু হয় ‘উমিদ’ পোর্টাল, এবং সম্পত্তি জমা দেওয়ার জন্য ছ’মাস সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ৬ ডিসেম্বর ছিল শেষ তারিখ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আগেই জানিয়ে দেন—শেষ তারিখ আর বাড়ানো হবে না।

উমিদ পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তিকে সফল করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ওয়ার্কশপ, বিশেষ মডিউল, সাতটি আঞ্চলিক বৈঠক এবং হেল্পলাইন চালু করে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা রাজ্যগুলিকে সরাসরি সহায়তা করেন, যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়।

তবে ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও জারি। লোকসভায় ২৮৮টি ভোটে এবং রাজ্যসভায় ১২৮টি ভোটে পাশ হয় সংশোধনী বিল, যা রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে ৫ এপ্রিল আইনে পরিণত হয়। পরে এই আইনকে কেন্দ্র করে মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত জানায়—সংসদে পাশ হওয়া আইনকে অসাংবিধানিক বলা যায় না, কিন্তু সংশোধিত আইনের দু’টি ধারায় শীর্ষ আদালতের আপত্তি রয়েছে।

আদালতের প্রথম আপত্তি—জেলাশাসক বা সমপদস্থ আধিকারিক স্থির করতে পারবেন কি না কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ না সরকারি। আদালতের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার কেবল আদালতেরই থাকা উচিত। দ্বিতীয় আপত্তি—ওয়াকফে দানকারীকে অন্তত পাঁচ বছর ইসলাম ধর্ম পালনের প্রমাণ দিতে হবে, কিন্তু এই নিয়ম কার্যকর করার কোনও নির্দেশিকা তৈরি করেনি কেন্দ্র। ফলে দু’টি ধারা আপাতত স্থগিত।

সব মিলিয়ে, উমিদ পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তির বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করছে—ভারতে ওয়াকফ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো ডিজিটাল স্তরে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। রাজ্যগুলির অংশগ্রহণ, সম্পত্তি অনুমোদনের হার এবং আদালতের নির্দেশ মেনে এগোনো—সব মিলিয়ে এটি হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক পুনর্বিন্যাসের ধাপ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত