মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি এক পোস্টে লিখেছেন, “ভারত ও রাশিয়াকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেললাম।” সেই সঙ্গে তিনি শেয়ার করেছেন একটি ছবি, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-কে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের সেই পোস্টে আরও লেখা, “মনে হচ্ছে ভারত, রাশিয়াকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি। আশা করি ওদের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ হোক।” আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্দরে এই বার্তা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রবল আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে শুল্কের জটিলতা
সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য ভারতের উপরে আমেরিকা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, ভারত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করে, যার ফলে আমেরিকা ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে না। তবে ভারত সেই চাপের সামনে মাথা নত না করে রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত ক্রুড তেল আমদানি করছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া ও চিন। সম্প্রতি চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সামিট-এ যোগ দিয়েছিলেন মোদী ও পুতিন। সেখানে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাদের বৈঠক নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারত-রাশিয়া-চিনের এই ঘনিষ্ঠতা আমেরিকার একক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
আমেরিকার অভ্যন্তরে বিতর্কিত মন্তব্য
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পিটার ন্যাভারো সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, “রাশিয়া নয়, ভারতের দরকার আমেরিকাকে।” এমনকি তিনি ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধকে “মোদীর যুদ্ধ” বলে দাবি করেছিলেন। এই বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে ক্ষোভ ছড়ায়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ন্যাভারোর মন্তব্য আমরা দেখেছি এবং তা সম্পূর্ণ খারিজ করছি। ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মিলিত স্বার্থের ভিত্তিতে অংশীদার।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আলাস্কায় ভারত-আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া চলছে, যা দুই দেশের সহযোগিতার প্রমাণ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও মিলিত স্বার্থের উপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
ট্রাম্পের পোস্টকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও কি ভারত এখন রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে কৌশলগত দূরত্ব কমাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত একদিকে মার্কিন অংশীদারিত্ব বজায় রাখলেও, অন্যদিকে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করে বহুমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে।
আপাতত ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারতের এই বহুমুখী কূটনীতি আমেরিকার চোখে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই সম্পর্ক কোন পথে যাবে, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।




