নজরবন্দি ব্যুরোঃ পারল না যন্ত্রমানবও, এখনও আগুনের গ্রাসেই ব্যারাকপুরের গেঞ্জি কারখানা। একটা গোটা দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নজিরবিহীনভাবে এখনও লেলিহান আগুনের গ্রাসে ব্যারাকপুর গেঞ্জি কারখানা। এদিকে কারখানার ভিতরে থাকা ৪ জন শ্রমিকের এখনও কোন খোঁজ মেলেনি। আগুন নেভার বদলে বারবার জ্বলে উঠছে কারন ওই কারখানায় বর্তমানে মাস্ক স্যানিটাইজারের ও ওষুধের মত অতিপ্রয়োজনীয় বস্তু জমা রয়েছে যা একই সঙ্গে অতি দাহ্য পদার্থ। যার জেরে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা যথেষ্ট কঠিন হচ্ছে বলে মনে করছে দমকলবাহিনী।
আরও পড়ুনঃ দুই ডোজে দুরকম ভ্যাকসিন? তাতেও নেই কুছ পরোয়া, জানিয়ে দিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
বৃহস্পতিবার ভোরে নিউ বারাকপুরের বিলকান্দা এলাকায় এক গেঞ্জি কারখানায় আগুন লাগে। কারখানার পিছনের দিকে ছিল এক বেসরকারি হাসপাতালের গুদাম। সেখান মজুত প্রচুর পরিমাণ মেডিক্যাল সরঞ্জাম অর্থাৎ ডায়াপার, স্যানিটাইজার, বেবি ফুড। এসবই অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরে চারজন আটকে পড়েন। এদিন চারজনের পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। আটকে থাকা কর্মী সুব্রত ঘোষ, তন্ময় ঘোষ চাকদহের বাসিন্দা, অমিত সেন হরিণঘাটা এবং স্বরূপ ঘোষ অশোকনগরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। প্রচণ্ড আগুনের মধ্যে তাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বড়ই কম বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও আগুন লাগার সময় তাঁরা ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁদের কাছাকাছি থাকা ৪ টি সিলিন্ডারও ফেটে যায়। তাঁদের একজনের পরিবার মালিকের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। তাঁদের দাবি লকডাউন থাকা সত্বেও ৪ জনকে কিছুদিন আগে কাজে ডেকে পাঠায় মালিক।
যদিও মালিকের দাবি তিনি করোনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরি করেন তাই এর জন্য জেলাশাসকের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। যদিও জবাবে অনুমতি এখনও তিনি পাননি। এদিকে রোবট নামিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও তেমন লাভ হল না। দমকল কর্মীরা বিল্ডিংয়ের একটি অংশ ভেঙে ফেলেছেন। ভাঙা হয়েছে জানলার কাচ। তা সত্ত্বেও কারখানার ভিতরে ঢুকতে ব্যর্থ দমকল কর্মীরা। প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায়, দাউদাউ আগুন নেভার বদলে বারবার জ্বলে উঠছে। যদিও দমকলের দাবি, শুক্রবার ভোর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কোথাও কোথাও পকেট ফায়ার রয়েছে।
পারল না যন্ত্রমানবও, এখনও আগুনের গ্রাসেই ব্যারাকপুরের গেঞ্জি কারখানা। এত বড় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত নিজে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে অগ্নিনির্বাপণের তদারকি করেছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তবু গোটা একটা দিন পেরিয়ে গেল, প্রায় ২৪ টি ইঞ্জিনের সাহায্য নিয়েও আগুন সম্পূর্ণ আয়ত্তে আনা গেল না। প্রাথমিকভাবে দমকলের অনুমান, কারখানাটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল না। তাই সেই কাজে এতটা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে দমকল কর্মীদের।



