ভারতের বিচারব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় রচিত হলো আজ। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বিআর গবইয়ের অবসরের পর তিনিই দেশের ৫৩তম CJI হিসেবে দায়িত্ব গ্ৰহণ করলেন। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে বরিষ্ঠতম বিচারপতিই প্রধান বিচারপতির পদে আসীন হন। গবইয়ের অবসরের পর সেই স্থানে ছিলেন বিচারপতি কান্ত। আগেই বিদায়ী CJI ন্যূনতম সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির কাছে, যা অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নিয়োগ ঘটে।


বিচারপতি সূর্য কান্ত ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিচারপতি বিক্রম নাথের এই পদে আসার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে বিচারিক মহল মনে করছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হলেন সূর্য কান্ত, দায়িত্বে ১৪ মাস
বিচারপতি কান্তের যাত্রা শুরু হয়েছিল এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। ১৯৬২ সালে হরিয়ানায় জন্ম নেওয়া এই বিচারপতি ১৯৮৪ সালে বার কাউন্সিলে যোগ দেন। পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাই কোর্টে প্র্যাকটিসের জন্য তিনি চণ্ডীগড়ে স্থায়ী হয়ে যান এবং দ্রুতই দক্ষ আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পান।
২০০০ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি হন হরিয়ানার কনিষ্ঠতম অ্যাডভোকেট জেনারেল। চার বছর পর, ২০০৪ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগ হয়। উচ্চ আদালতে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও আইনি প্রজ্ঞা তাঁকে দ্রুতই আরও বড় দায়িত্বের পথে নিয়ে যায়।


২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত তিনি হিমাচল প্রদেশ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলান। এরপর ২০১৯ সালের ২৪ মে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হিসেবে তাঁর উৎকর্ষের নতুন যাত্রা শুরু হয়।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর মেয়াদে বিচারব্যবস্থার ডিজিটাইজেশন, মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য আইনি সহায়তা ব্যবস্থার উন্নতিই বড় ফোকাস হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের বিচারব্যবস্থা এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার মুখোমুখি। তাই বিচারপতি কান্তের মেয়াদ দেশের বিচারনৈতিক কাঠামোয় বিশেষ প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই আইনজ্ঞদের অনুমান।








