সুপার কাপ অধরা ইস্টবেঙ্গলের—গোয়ার ফতর্দা স্টেডিয়ামে রবিবারের রাত যেন আবারও সেই পুরনো ব্যথা ফিরিয়ে দিল লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে। চলতি মরশুমে প্রথম কোনও বড় ট্রফি জয়ের হাতছানি ছিল সামনে, প্রতিপক্ষ এফসি গোয়া। ম্যাচে একটুও কম যাননি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। দীর্ঘ ১২০ মিনিটের গোলশূন্য লড়াইয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ভেঙে গেল স্বপ্ন। সুপার কাপ অধরা ইস্টবেঙ্গলের গল্পে যোগ হল আরও একটি হতাশার অধ্যায়।
গোয়ার মাঠে স্বাভাবিকভাবেই সমর্থনের সিংহভাগ ছিল মানোলো মার্কেজের দলের জন্য। স্টেডিয়ামের প্রতিটি আক্রমণে যেন গর্জে উঠছিল গোয়া–সমর্থকদের কণ্ঠ। তবু লাল-হলুদ সমর্থকদের উপস্থিতিও নজরকাড়া। সেমিফাইনালেও তাঁরা ছিলেন, আর ফাইনালেও ভালসংখ্যায় হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু ফুটবলারদের লড়াই সত্ত্বেও আনন্দ দিতে পারলেন না তাঁদের।


সুপার কাপ অধরা ইস্টবেঙ্গলের, গোয়ার কাছে পেনাল্টিতে স্বপ্ন ভঙ্গ লাল-হলুদের
ম্যাচের প্রথম ৯০ মিনিট দুই দলই লড়ল সমান তালে। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ আজ নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। গোয়ার আক্রমণভাগ যতবারই সুযোগ তৈরি করেছে, ততবারই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন লাল–হলুদের ডিফেন্ডাররা। গোলরক্ষকেরও ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলও বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠেছে, কিন্তু গোয়ার বক্সে গিয়ে ঠিক ফিনিশিংটুকু করতে পারেনি। তাই গোলশূন্য ভাবেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়।

তারপর অতিরিক্ত ৩০ মিনিট—সেখানেও একই চিত্র। চেষ্টার কমতি নেই, কিন্তু গোল নেই। গোয়া বা ইস্টবেঙ্গল কেউই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করতে পারল না। অবশেষে ম্যাচ গড়াল পেনাল্টি শুটআউটে, যেখানে শুরুতে চমৎকারভাবেই এগোচ্ছিল লাল–হলুদ। প্রথম পাঁচটি শটে দুই দলই চারটি করে গোল করে। কিন্তু এরপরের সিদ্ধান্তমূলক শটে ভেঙে পড়ল সব আশা।
গোয়া তাদের পরের দুটি শুটেই গোল করে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল করতে পারল মাত্র একটি। সেখানেই শেষ হয়ে গেল লাল–হলুদের লড়াই। সুপার কাপ অধরা ইস্টবেঙ্গলের ব্যথা যেন আবারও তাড়া করল সমর্থকদের।


ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ বিনো জর্জ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর কথায়, “লক্ষ্য শুধুই সেরাটা দেওয়া।” তিনি জানতেন, ওড়িশায় আগের সুপার কাপ ফাইনালে যেমন সমর্থক পেয়েছিলেন, গোয়ার মাঠে তা মিলবে না। তবু তিনি আশা করেছিলেন, খেলোয়াড়েরা মনোযোগ ধরে রাখবেন। তাঁদের পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার যোগ্য, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভাগ্য সহায় হয়নি।
এই হারের মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল যে শক্ত লড়াই দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু দিনের শেষে ফুটবল ফলাফলের খেলা। আর ফল বলছে—সুপার কাপ অধরা ইস্টবেঙ্গলের, আবারও।









