সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের সামনে অবশেষে জেলমুক্তির দরজা খুলল। পশ্চিমবঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলিতে আগেই জামিন পাওয়ার পর এবার অসমের একটি সিবিআই মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে সুদীপ্ত সেনের জেল থেকে বেরোনোর পথ কার্যত পরিষ্কার হয়েছে। তবে মুক্তির আগে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতকে তাঁর জামিনের শর্ত নির্ধারণ করতে হবে।
অসমের মামলাটি ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া একটি প্রতারণার অভিযোগ থেকে শুরু হয়েছিল। পরে তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই (CBI)। এই মামলায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চললেও সুদীপ্ত সেন হেফাজতেই ছিলেন। ২০২৫ সালে এই মামলায় জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল গুয়াহাটি হাই কোর্ট (Gauhati High Court)। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যান সারদা গোষ্ঠীর কর্তা।
মঙ্গলবার, ১৮ অগস্ট, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল (Justice Sanjay Karol) এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ (Justice Augustine George Masih)-এর বেঞ্চ মামলাটি শুনে জামিন মঞ্জুর করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্ত হেফাজতে রয়েছেন এবং মামলার অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনা করেই জামিন দেওয়া হচ্ছে।
শীর্ষ আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, সুদীপ্ত সেনকে সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে সংশ্লিষ্ট ট্রায়াল কোর্টে হাজির হতে হবে এবং সেই আদালতই জামিনের প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ করবে। শর্ত পূরণ হওয়ার পরই জেলমুক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে।
সারদা মামলায় সুদীপ্ত সেনের আইনি লড়াই দীর্ঘদিনের। ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে এবং সারদা গোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সারদা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়।
এরপর বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে দায়ের হওয়া মামলার জটিলতায় জেলেই থাকতে হয়েছে সুদীপ্ত সেনকে। পশ্চিমবঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলায় ধাপে ধাপে জামিন মিলেছে। চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গে থাকা শেষ কয়েকটি মামলাতেও জামিন পাওয়ার খবর সামনে আসে। কিন্তু অসমের সিবিআই মামলাটি জেলমুক্তির পথে অন্যতম বড় আইনি বাধা হয়ে ছিল।
এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই বাধাও অনেকটাই কেটে গেল। যদিও জামিন পাওয়া মানেই মামলা থেকে অব্যাহতি নয়—অসমের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে। নিম্ন আদালতের শর্ত পূরণ করে সুদীপ্ত সেন বাস্তবে কবে জেল থেকে বেরোতে পারবেন, এখন সেদিকেই নজর।
সারদা কাণ্ডে দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি অধ্যায়ের পর তাই সুদীপ্ত সেনের জন্য মঙ্গলবারের এই রায় নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। তবে বহু প্রতীক্ষিত জেলমুক্তির আগে এখনও ট্রায়াল কোর্টের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া বাকি।



