শক্তিশালী জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক কমরেড

বাংলার শক্তিশালী জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক কমরেড। এবার আরও একটি রাজনৈতিক যুগের অবসান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ১৯৪৪ সালের ১ মার্চ উত্তর কলকাতায় এক বাঙালি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। একটি পুত্র রয়েছে। পরিবারটি কলকাতার বালিগঞ্জে একটি দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করে। তিনি কয়েক দশক ধরে দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন এবং একই বাসভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধদেব পড়াশুনার পাশাপাশি খেলতেও খুব ভালবাসতেন। কবাডি ও ক্রিকেট খেলতে বেশি ভালবাসতেন। তবে চোখের সমস্যার জন্য তাঁকে ক্রিকেট খেলা ছাড়তে হয়। কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে রোম্যান্টিসিজ়ম তাঁকে ছেড়ে যায়নি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সখ্যের অন্যতম কারণ ছিল ক্রিকেট। সেটি ক্রিকেট রোম্যান্টিক বুদ্ধদেব। তবে বামপন্থী পরিবারে বেড়ে ওঠার সংস্কৃতি বুদ্ধদেবের উপর প্রগাঢ় প্রভাব ফেলেছিল।

তিনি ১৯৬৬ সালে সিপিআই(এম) এর প্রাথমিক সদস্য হিসাবে যোগদান করেন। খাদ্য আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনামের আন্দোলনকেও সমর্থন করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন, যুব শাখার রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হন। সিপিআইএম এর যা পরে ভারতের ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশনে একীভূত হয় । তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন, যখন তিনি বোরেন বসুর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি প্রমোদ দাশগুপ্তের পরামর্শদাতা ছিলেন ।

এরপর ১৯৯৬ মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর বয়স্ক স্বাস্থ্যের কারণে ভট্টাচার্যকে স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে, তাকে পশ্চিমবঙ্গের উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়। এরপর ২০০০ সালে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১ এবং ২০০৬ সালে সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টকে পরপর দুটি নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

বামে দের ৩৪ বছরের শাসনকালে ২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১১ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ২০১১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ৭ম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তার মেয়াদে শক্তিশালী জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের মুখোমুখি হন। এর ফলে ভট্টাচার্য ২০১১ সালের নির্বাচনে হেরে যান যার ফলে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের পতন ঘটে , যা বিশ্বের দীর্ঘতম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার।

২০১১-র নির্বাচনে হারের পর থেকেই বুদ্ধদেবের শরীর ভাঙতে শুরু করে। দলীয় কাজকর্ম থেকেও ক্রমশ অব্যাহতি নিয়ে নেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও দু’বেলা আলিমুদ্দিনের দলীয় দফতরে আসতেন মূলত পড়াশোনা করার জন্য। ধীরে ধীরে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসতে থাকে। শ্বাসকষ্টের পুরনো সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। একাধিক বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। বাড়িতেও চলে পর্যবেক্ষণ। এমনকি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তাঁর তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে খসে গেল ৩৪ বছরের বাম জামানার দ্বিতীয় নক্ষত্র। প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ৮০ বছর বয়সেই সকাল ৮:২০ মিনিটে তার পাম অ্যাভিনিউর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার রাতে বুদ্ধদেবের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেটা রাতে কোনো রকমে সামাল দেওয়া হয়েছিল। ফের শ্বাসকষ্ট বাড়ে বৃহস্পতিবার সকালে। এরপরে দেওয়া হয় অক্সিজেন। তবে শেষ রক্ষা করা যায়নি বৃহস্পতিবার সকালে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত