ভারতে Starlink India price leak নিয়ে সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছিল ব্যাপক জল্পনা। ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্কের ওয়েবসাইটে কয়েক মুহূর্তের জন্য প্রদর্শিত হয়েছিল ইনস্টলেশন ফি ও মাসিক সাবস্ক্রিপশনের সম্ভাব্য মূল্য তালিকা। দাম দেখে অনেকেই তা শেয়ার করতে শুরু করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভারতে স্টারলিঙ্কের ওয়েবসাইট এখনও চালু হয়নি, এবং যে দাম ঘিরে এত আলোচনা, তা আসল নয়।
স্টারলিঙ্কের বিজনেস অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রয়ার X-এ লিখেছেন, ওয়েবসাইটে দেখা গিয়েছিল কিছু dummy test data, যা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অল্প সময়ের জন্য লাইভ হয়ে যায়। তাঁর কথায়, সংস্থার ভারত-সংক্রান্ত কোনও অফিসিয়াল মূল্য ঘোষণা এখনও হয়নি এবং স্টারলিঙ্ক ইন্ডিয়া কোনও অর্ডারও নিচ্ছে না। ফলে যেসব সংখ্যা অনেকে দেখেছেন, সেগুলো সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক।
স্টারলিঙ্ক নিয়ে বিভ্রান্তি, ‘ভারতের বাজারে দাম ঘোষণা হয়নি’, জানালো সংস্থা
দিনের শুরুতে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছিল, ইনস্টলেশন চার্জ প্রায় ৩৪,০০০ টাকা এবং প্রতি মাসের সাবস্ক্রিপশন ফি ৮,৬০০ টাকার মতো হবে। এই Starlink India price leak মুহূর্তেই আলোড়ন ফেলে। দ্রুতগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা কবে থেকে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন অনেকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে ব্রডব্যান্ড বা মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে Starlink-এর পরিষেবা পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিনের। তাই এই দাম সামনে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয় বিশদ চর্চা।
কিন্তু সংস্থার পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—এই সংখ্যাগুলির কোনওটিই Starlink-এর অফিসিয়াল ভারতীয় মূল্য নয়। লরেন ড্রয়ার জানান, একটি configuration glitch-এর কারণে টেস্ট ডেটা প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। ত্রুটি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশোধন করা হয়।
ভারতে Starlink পরিষেবা চালু করার অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর থেকেই সংস্থা দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি টেস্ট শুরু করেছে। অক্টোবর থেকেই চলছে টেলিকম সিকিউরিটি যাচাই। তবে চূড়ান্ত অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত Starlink India ওয়েবসাইট ও পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থা।
ভারতের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে high-speed satellite internet পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। Low Earth Orbit (LEO) স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সিগন্যাল পাঠানোর ফলে ল্যাটেন্সিও কম থাকে। যেখানে ফাইবার বা মোবাইল টাওয়ার পৌঁছায় না, সেখানে এই পরিষেবা বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দেশের ডিজিটাল বিভাজন কমাতেও স্টারলিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা অনেকের।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ভারতে Starlink-এর আসল দাম কত হবে? সংস্থা জানিয়েছে, সরকারি অনুমতি পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে ইনস্টলেশন কিটের মূল্য, মাসিক চার্জ এবং রেসিডেনশিয়াল ও কমার্শিয়াল প্ল্যানের বিস্তারিত।
বর্তমানে আলোড়ন তৈরি করা তথাকথিত Starlink India price leak তাই ভুল তথ্যের উপর দাঁড়িয়ে। সংস্থার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি জোরকদমে চললেও আনুষ্ঠানিক মূল্য ঘোষণা এখনও বাকি। ফলে এখনই কোনও দাম ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
Starlink-এর মতে, ভারত বিশাল সম্ভাবনার বাজার। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই পরিষেবা শুরু হবে, এবং তখনই জানা যাবে দেশের ব্যবহারকারীদের জন্য বাস্তবিক মূল্য কত হবে।







