নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫ হাজারেরও বেশি চাকরি বাতিলের ঘটনায় যখন রাজ্য জুড়ে চাপা উত্তাপ, ঠিক সেই সময় প্রাক্তন বিচারপতি এবং বর্তমান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নিতে চলেছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের একাংশ। মঙ্গলবার দুপুর ৩টেয় ‘এসএসসি ২০১৬ প্যানেলের বৈধ চাকরিহারা সমাজ’ মঞ্চের প্রতিনিধিরা দেখা করবেন অভিজিতের সঙ্গে।
চাকরিচ্যুতদের দাবি, তাঁরা দক্ষ আইনজীবীর অভাবে সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের দাবি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছেন না। সেই কারণেই তাঁরা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আইনি দিক নির্দেশনার প্রত্যাশা করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলা প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিচারপতি অভিজিতের এজলাসে।
তিনিই প্রথম রায় দিয়েছিলেন, এবার আইনি পরামর্শ নিতে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ চাকরিচ্যুতরা!

এই বিষয়ে অভিজিৎ বলেন, “ওঁরা আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন, আমি কয়েক জনের নামের তালিকাও পেয়েছি। আইনত কোনও পরামর্শ সরাসরি দিতে না পারলেও দলের নির্দেশ অনুযায়ী কথা বলব।”
সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের একাংশ। তাঁরা আট দফা দাবি উপস্থাপন করেন এবং জানান, তাঁদের এখনও বরখাস্তপত্র দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যোগ্য প্রার্থীদের সমস্যা আগে মেটানো হবে। পরে অযোগ্যদের বিষয়েও ভাবা হবে।” তবে এই আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না সবাই। তাই এবার তাঁরা আস্থার জায়গা হিসেবে প্রাক্তন বিচারপতির দ্বারস্থ হচ্ছেন।
“রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কথা বলেছিলেন অভিজিৎ”— চাকরিহারাদের পক্ষে সুমন বিশ্বাস বলেন, “অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, যদি রাজ্য সরকার যোগ্যদের তালিকা ও ওএমআর শিট প্রকাশ করে, তবে চাকরি ফেরানোর সম্ভাবনা আছে। আমরা তাঁর বক্তব্যে আস্থা রাখি।”
সুপ্রিম কোর্ট SSC ২০১৬ নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল করেছে। কলকাতা হাই কোর্টের রায়কে সমর্থন জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। এক ধাক্কায় চাকরি হারিয়েছেন ২৫,৭৩৫ জন। তবে সুপ্রিম কোর্ট মমতা সরকারের অতিরিক্ত শূন্যপদ (Supernumerary Post) তৈরির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি। পাশাপাশি সিবিআই তদন্তের দাবিও খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ।



