দীর্ঘ ২১ দিনের অনশনের পর অবশেষে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হল। শনিবার ভোরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে পৌঁছে পুলিশ ও চিকিৎসকরা অনশনরত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যান। দিল্লি পুলিশের দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যন্তর-মন্তর এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও বড় ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটেনি।
ভোরেই যন্তর-মন্তরে পৌঁছয় পুলিশ
শনিবার সকালে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী ও চিকিৎসক যন্তর-মন্তরে পৌঁছে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখান। কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়নি।
কী বলল দিল্লি পুলিশ?
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুকের জীবন রক্ষা করাই ছিল প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। পুলিশ জানায়, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার সময় কয়েকজন আন্দোলনকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সংযম বজায় রেখেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সকলকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
অনশন ভাঙতে শেষ মুহূর্তেও রাজি হননি
এর আগের দিন, অনশনের ২০তম দিনেও সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁর সঙ্গে দেখা করে স্বাস্থ্যগত কারণে অনশন ভাঙার আবেদন জানান।
কিন্তু ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ছাত্রদের দাবির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছিল উদ্বেগ
দীর্ঘদিনের অনশনের জেরে গত কয়েকদিন ধরেই সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে জানা যায়, তাঁর ওজন প্রায় ৯ থেকে ১০ কিলোগ্রাম কমে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন চিকিৎসকরা।
তবে দুর্বলতা সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন ওয়াংচুক। এর আগেই দিল্লি হাইকোর্ট প্রশাসনকে তাঁর স্বাস্থ্যের উপর নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে অবিলম্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল। শনিবারের পদক্ষেপ সেই নির্দেশেরই বাস্তবায়ন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাঁর জ্ঞান ফিরেছে এবং বর্তমানে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
কেন অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক?
গত ২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর মূল দাবি ছিল, NEET-UG-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক একাধিক পরীক্ষা কেলেঙ্কারির ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সেই দাবিতেই অনশন ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওয়াংচুক।
দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপে আপাতত সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তাঁর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং ছাত্রদের দাবির বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও আন্দোলনকারীদের।