বাংলায় বর্তমানে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision)। রাজ্যের বহু জেলায় চলছে নাম যাচাই ও তথ্য আপডেটের কাজ। এর মধ্যেই নানা প্রশ্ন ঘুরছে সাধারণ মানুষের মধ্যে—কারা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, কাদের নাম থাকবে, আবার কাদের নতুন করে যুক্ত করা হবে। এই বিভ্রান্তি কাটাতে অবশেষে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)।
কমিশনের বক্তব্য, SIR প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য একটি নির্ভুল ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা (Voter List) তৈরি করা। তাই শুধুমাত্র সঠিক তথ্য ও প্রামাণিক ডকুমেন্ট থাকা নাগরিকদেরই নাম রাখা হবে তালিকায়।


কে থাকবেন SIR ভোটার তালিকায়
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাকে বেস হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ যাঁরা ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন, সেই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভারতের বৈধ নাগরিক, তাঁদের নামই তালিকায় থাকবে। এই তিনটি মানদণ্ডই ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রধান শর্ত।
কমিশনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, শুধুমাত্র বয়স বা বসবাস নয়, বাস্তব নাগরিকত্ব যাচাই করা হবে। যারা সংশ্লিষ্ট এলাকার বৈধ নথিপত্র—যেমন আধার, রেশন কার্ড, বিদ্যুৎ বিল, বা জমির নথি—দেখাতে পারবেন, তাদেরই নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে।


কারা বাদ পড়বেন ভোটার তালিকা থেকে
SIR ভোটার তালিকা থেকে তিনটি স্পষ্ট কারণে নাম বাদ যাবে—
প্রথমত, যাঁরা মৃত, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়বে।
দ্বিতীয়ত, যাঁরা অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছেন বা অন্যত্র ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে, তাঁদের পুরনো ঠিকানার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে।
তৃতীয়ত, যাঁদের কোনও বৈধ ডকুমেন্ট নেই বা ভুলবশত নাম উঠে গিয়েছিল, তাঁদের নামও বাদ দেওয়া হবে যাচাইয়ের পর।
কমিশন জানিয়েছে, এই তিন ক্ষেত্রের বাইরে কেউ অযথা বাদ যাবেন না।
ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সূচি
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Voter List)। এরপর ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ ও যাচাইয়ের পর্ব। এই সময়ে যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে লিঙ্কিং বা ম্যাচিং হবে না, তাঁদের নোটিস পাঠাবেন ERO (Electoral Registration Officer)।
নোটিস পাওয়ার পর হিয়ারিংয়ে উপস্থিত থেকে ভোটারদের ১১টি নির্দিষ্ট নথির মধ্যে যেকোনও একটি দেখাতে হবে। কমিশন যাচাই করবে নাগরিকের অবস্থান, ঠিকানা ও নাগরিকত্বের তথ্য। সব যাচাই শেষ করে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List 2025)।
কমিশনের বার্তা: আতঙ্কের কিছু নেই
নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় কোনও বৈধ ভোটার বাদ পড়বেন না। উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ভুল সংশোধন এবং ভূয়া নাম মুছে ফেলা। কমিশনের এক কর্তা জানান, “আমরা চাই নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করতে। কেউ যেন ভুলবশত বাদ না পড়েন, সেটাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
তাই যাঁদের বৈধ নথি আছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জমা দিয়েছেন, তাঁদের চিন্তার কিছু নেই।








