ইডেন টেস্টে চোট পাওয়ার পর গুয়াহাটি টেস্টে শুভমান গিল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। তাঁর ঘাড়ের ব্যথা এতটাই বেড়েছে যে ডাক্তাররা কমপক্ষে পাঁচ দিনের বিশ্রাম দিয়েছেন। ইডেন টেস্ট শেষ হওয়ার পর সেই বিশ্রামসীমা শেষ হচ্ছে ২১ নভেম্বর। আর ঠিক পরের দিন, ২২ নভেম্বর শুরু দ্বিতীয় টেস্ট। এই কারণে গুরুতর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছে শুভমানের মাঠে নামা।
মঙ্গলবার ইডেনে দ্বিতীয় টেস্টের প্রস্তুতি শুরু করলেও প্র্যাক্টিসে দেখা যায়নি শুবমানকে। প্রথম ইনিংসে তিন বল মোকাবিলার পরই ব্যথায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে, পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনও পর্যন্ত বোর্ডের তরফে তাঁর খেলতে না পারা নিয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা না এলেও টিম সূত্রে জানা যাচ্ছে, আজ বুধবার তিনি দলের সঙ্গে গুয়াহাটি যাত্রা করছেন না।
শুভমান যদি দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে না পারেন, তাহলে নেতৃত্ব সামলাবেন ভাইস-ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ। কিন্তু বড় প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে— চার নম্বরে কে? এই মুহূর্তে দুই বিকল্প সাই সুদর্শন ও দেবদত্ত পাডিক্কাল। দু’জনেই বাঁহাতি ব্যাটার, দু’জনেরই টেস্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে।
অক্টোবর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজে তিন নম্বরে নেমে দারুণ ফর্মে ছিলেন সাই সুদর্শন— দুটি ইনিংসে করেছিলেন ৮৭ ও ৩৯। তবু ইডেনে তাঁর বদলে তিনে খেলানো হয়েছিল ওয়াশিংটন সুন্দরকে। গুয়াহাটিতেও সুন্দরকে তিন নম্বরে পাঠানো হবে কি না সেটাও বড় প্রশ্ন।
মঙ্গলবার ইডেনে প্র্যাক্টিসে ধ্রুব জুরেল, আকাশ দীপ, ওয়াশিংটন সুন্দর ও সাই সুদর্শনকে দেখেই বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন— শুবমানের জায়গায় সাই-ই এগিয়ে। সাই নেটে যথেষ্ট সময় ব্যাট করেছেন, কোচিং স্টাফও নজর রেখেছেন তাঁর প্রস্তুতির ওপরে। পাশাপাশি, অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডিকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে গুয়াহাটি টেস্টের জন্য।
এদিকে, ইডেনের পিচ নিয়ে প্রবল সমালোচনার জবাব দিয়েছেন হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইডেনের উইকেট ‘আনপ্লেয়েবল’ নয়। তাঁর ভাষায়, ‘এমন উইকেটই আমরা চেয়েছিলাম। ব্যাটাররা স্পিন খেলতে পারেনি বলে হারতে হয়েছে।’ পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কেও সমর্থন করেছেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁদের দু’জনকে ইডেনে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়, এবং মুহূর্তেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সুজনও জানিয়েছেন, ‘গম্ভীরের সাহস আছে। ও পিচ নিয়ে সত্যিটাই বলেছে।’ যদিও পরীক্ষার মুখে পড়ছে গম্ভীরের টেস্ট নেতৃত্ব। তাঁর সময়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এশিয়া কাপ জিতলেও টেস্ট পারফরম্যান্স প্রশ্নের মুখে। দেশের মাঠে চারটি টেস্ট জিতলেও ছিল দুটি বাংলাদেশ ও দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে— তুলনামূলক দুর্বল দল। গত বছর নিউ জিল্যান্ডই ৩–০ হারিয়ে গিয়েছে ভারতকে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকা ইডেনে জেতায় সিরিজ আর জেতা সম্ভব হবে না।
গাভাসকর-চেতেশ্বর পূজারার মতো কিংবদন্তিরা ইতিমধ্যেই ইডেন পরাজয় নিয়ে সরব হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, নজর এখন গুয়াহাটি টেস্টে— শুভমান গিল না খেললে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার কোন রূপ নেবে, সেটাই এখন বড় চর্চার বিষয়।







