শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার রুদ্রাক্ষ ধারণ করলেই বদলে যাবে ভাগ্য—এই বিশ্বাস হিন্দুধর্মে গভীরভাবে গাঁথা। রুদ্রাক্ষ কেবল একটি পবিত্র ফল নয়, শিবের কৃপা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। পুরাণ মতে, রুদ্রাক্ষের উৎপত্তি স্বয়ং মহাদেবের অশ্রুবিন্দু থেকে। তাই এই অদ্ভুত বলয়সম্পন্ন পবিত্র বস্তুকে ধারণ করলে জীবন পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হয় শাস্ত্রে।
আগামী ৪ অগস্ট, সোমবার অর্থাৎ ১৮ শ্রাবণ রুদ্রাক্ষ ধারণের এক মহাশুভ মুহূর্ত। অনেকে বিশ্বাস করেন, শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার রুদ্রাক্ষ ধারণ করলেই বদলে যাবে ভাগ্য। এই দিন শিবের আরাধনায় রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে জীবনে আসে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানসিক শক্তি। সেই সঙ্গে দূর হয় অর্থকষ্ট ও বাধা-বিপত্তিও।


শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার রুদ্রাক্ষ ধারণ করলেই বদলে যাবে ভাগ্য, তবে তা হতে হলে মানতে হবে নির্দিষ্ট কিছু শাস্ত্রসম্মত নিয়ম। রুদ্রাক্ষ পরা কেবল একটি আচার নয়, এটি একেবারে শিবভক্তির প্রতীক। এই রুদ্রাক্ষ ধারণের জন্য প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি, মন্ত্রপাঠ ও কিছু বিশেষ সতর্কতা।
শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার রুদ্রাক্ষ ধারণ করলেই বদলে যাবে ভাগ্য, তবে মানতে হবে এই নিয়ম

শাস্ত্র বলছে, রুদ্রাক্ষ ধারণ করার আগে অবশ্যই স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরতে হবে। তারপর একটি নতুন বা পবিত্র রুদ্রাক্ষ মালা ব্যবহার করতে হবে, যাতে অন্তত ২৭টি রুদ্রাক্ষ থাকে। এর কম রুদ্রাক্ষ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সংখ্যা অনুযায়ী রুদ্রাক্ষের প্রভাব ও শক্তি নির্ধারিত হয়।
রুদ্রাক্ষ কেনার পর সঙ্গে সঙ্গে সেটি গলায় না পরা উত্তম। বরং লাল কাপড়ে মুড়ে সেটিকে প্রথমে মহাদেবের চরণে নিবেদন করতে হবে। এরপর পূজা-অর্চনা করে গঙ্গাজলে ধুয়ে নিতে হবে রুদ্রাক্ষটি। এরপর ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্র ১০৮ বার জপ করে নিজের বাসনা জানিয়ে সেটি গলায় ধারণ করতে হবে।


শাস্ত্র মতে, শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার রুদ্রাক্ষ ধারণ করলেই বদলে যাবে ভাগ্য—এটি কেবল বিশ্বাস নয়, বহু শিবভক্তের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাঁরা বলেন, নিয়ম মেনে পরা রুদ্রাক্ষ জীবনের সমস্ত দুঃখ ও দুর্ভাগ্য দূর করে দেয়। এমনকি সংসারে আর্থিক অনটন, মানসিক দুশ্চিন্তা ও শারীরিক দুর্বলতাও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।
অনেকে মনে করেন, রুদ্রাক্ষ ধারণের পর তাঁদের জীবনে এক অলৌকিক শান্তি ও শক্তির সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে শ্রাবণের মতো শিবপূজার মাসে রুদ্রাক্ষ পরলে তার ফল কয়েক গুণ বেড়ে যায়। রুদ্রাক্ষ কেবল সৌভাগ্য বা অর্থ নয়, এটি এক বিশেষ ধ্যান ও আত্মিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবেও পরিচিত।
তবে মনে রাখতে হবে, রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে হলে পবিত্রতা ও নিয়মে কোনওরকম ফাঁকি দেওয়া চলবে না। যেমন অশুচি অবস্থায় রুদ্রাক্ষ ছোঁয়া নিষিদ্ধ। তেমনি তা নিয়ে অন্যদের সামনে গর্ব করার মানসিকতা থাকলে শিব কৃপা থেকে বঞ্চিত হবেন আপনি।
শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার রুদ্রাক্ষ ধারণ করলেই বদলে যাবে ভাগ্য—এই বিশ্বাস আগামী ৪ অগস্টে নতুন করে স্পষ্ট হতে চলেছে শিবভক্তদের কাছে। যাঁরা এখনও পর্যন্ত এই পবিত্র ফলটি ধারণ করেননি, তাঁরা এই সোমবারেই তা পরার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। শ্রাবণের শেষ সোমবারও এক শুভ সময় বলে মনে করা হয়।
শেষ কথা, রুদ্রাক্ষ ধারণ কেবল কোনও মানত পূরণের উপায় নয়। এটি এক আত্মিক যাত্রার সূচনা। তাই এই শ্রাবণে, সঠিক নিয়ম মেনে, শিবের আশীর্বাদ লাভের আশায় আপনি যখন রুদ্রাক্ষ পরবেন, তখন নিজের মনটিকেও প্রস্তুত করুন সেই ঐশ্বরিক শক্তি গ্রহণের জন্য
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



