পুজোর মরশুমে তৃণমূল রাজনীতিতে ফের নয়া হাওয়া। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় চতুর্থীর সন্ধ্যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার এই আলোচনার পর রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলে শোভনের প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বৈঠক শেষে শোভন সাংবাদিকদের বলেন, “অভিষেকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। ও অনেক পরিণত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে আমি মুগ্ধ, সমৃদ্ধ।” তৃণমূলে সক্রিয় হওয়া নিয়ে প্রশ্নে শোভন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক। সূত্রের খবর, অভিষেককে শোভন জানিয়েছেন তিনি দলের কাজে আগ্রহী এবং দল যেভাবে ব্যবহার করবে সেভাবেই কাজ করবেন।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন শোভন। মেয়রের পদ সামলানোর পাশাপাশি মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দিলেও তিনি সক্রিয় ছিলেন না। পরে বিজেপি ছেড়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। তবুও সময়ে সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং সম্পর্ক রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছে।
এই বৈঠক তাই তৃণমূলে তাঁর নতুন যাত্রাপথের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠক শেষে বলেন, “আমার কাছে এটা শ্রেষ্ঠ শারদ উপহার। শোভনের সক্রিয়তা এখন সময়ের অপেক্ষা।” তাঁর কথায়, “মমতাদির সঙ্গে শোভনের সম্পর্ক আমি বহুবার কাছ থেকে দেখেছি। আজ শোভন-অভিষেকের মধ্যে সেই আবেগও দেখলাম।”
শোভনও এদিন স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমি আবার কাজ করতে চাই। রাজনীতিতে ফিরতে চাই এবং সেটা তৃণমূলে থেকেই। কারণ তৃণমূল আমার কাছে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, পরিবারও, রক্তের সম্পর্ক।” এই বক্তব্যকে ঘিরেই তৃণমূলের অন্দরে ফের তাঁর সক্রিয় ভূমিকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
পুজোর আগে এই সাক্ষাৎ ও শোভনের বক্তব্য নিঃসন্দেহে তৃণমূল কংগ্রেসে এক নতুন মোড় আনতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের সাংগঠনিক কাজে অভিজ্ঞ ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি হিসেবে শোভনের ফেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে পারে। এখন দেখার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়।







