খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবার্তা শেখ হাসিনার, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ’ বলে শ্রদ্ধা

দীর্ঘ রাজনৈতিক বৈরিতা পেরিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করলেন ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু দশকের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘাতের ইতিহাস সত্ত্বেও, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ খালেদা জিয়া-র মৃত্যুতে প্রকাশ করলেন গভীর শোক। মঙ্গলবার ঢাকার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ সামনে আসতেই এক লিখিত বিবৃতিতে শোকজ্ঞাপন করেন হাসিনা।

২০০৪ সালের আলোচিত গ্রেনেড হামলার মতো তিক্ত স্মৃতিকে পাশে রেখে শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় খালেদা জিয়াকে ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় অবদানের স্বীকৃতি।

শোকবার্তায় শেখ হাসিনা লেখেন, “বিএনপি চেয়ারপার্সন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “তাঁর প্রয়াণ দেশের রাজনীতির জন্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

একই বার্তায় খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শেখ হাসিনা লেখেন, “আমি তাঁর পুত্র তারেক রহমান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁদের এই দুঃসময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই নারী নেত্রীর সম্পর্ক ছিল জটিল ও বহুমাত্রিক। শেখ হাসিনা যেমন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান-এর কন্যা হিসেবে রাজনীতিতে উঠে আসেন, তেমনই খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে ওঠে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর স্ত্রী হিসেবে। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর নিজস্ব নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তায় তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন এক শক্তিশালী রাজনৈতিক চরিত্র।

দুই নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ব্যক্তিগত স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়েছিল। লাল টেলিফোন নিয়ে তাঁদের ফোনালাপ সংক্রান্ত বিতর্ক এক সময় বাংলাদেশ রাজনীতির বহুল চর্চিত ঘটনা ছিল। সেই সব সংঘাত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধ্যায় মঙ্গলবার সকালে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসে পরিণত হল।

মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। একাধিক শারীরিক জটিলতা নিয়ে তিনি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর প্রয়াণের পর বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই শোকপ্রকাশ করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা জানানো হয়। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-কে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।” একই সঙ্গে তাঁকে শেখ হাসিনার শাসনামলের প্রতিরোধ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও সংঘাতময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল—যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও শেষ পর্যন্ত রয়ে গেল পারস্পরিক স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধার বার্তা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত