ব্যর্থতা, হতাশা আর নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর গল্প—এই বিশ্বকাপ যেন ঠিক সেই লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে রইল সঞ্জু স্যামসনের কাছে। এক সময় জাতীয় দলে জায়গা হারানোর আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া—সব কিছুর মাঝেই নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়ে সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দিলেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন।
২০২৪ সালে ভারতের টি২০ বিশ্বকাপজয়ী দলে থাকলেও সেবার একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি সঞ্জু। তবে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর মধ্যে নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছিল। তিনি মনে মনে কল্পনা করেছিলেন—একদিন নিজের কাঁধে ভর করেই ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতে চান। দু’বছর পর সেই স্বপ্নই যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিল।


গত বছরটা সঞ্জুর জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। একই ক্যালেন্ডার বছরে তিনটি সেঞ্চুরি করলেও এশিয়া কাপে তাঁর জায়গা নেন শুভমান গিল। ব্যাটিং অর্ডারেও তাঁকে নামতে হয়েছিল নিচের দিকে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজেও প্রত্যাশা মতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি তিনি। অনেকেই তখন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন।
কিন্তু টি২০ বিশ্বকাপে যেন নতুন সঞ্জুকে দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। পাঁচটি ম্যাচে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে মোট ৩২১ রান করেন তিনি। টানা তিনটি অর্ধশতরান তাঁর ইনিংসকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। সেই পারফরম্যান্সের জোরেই বিরাট কোহলি ও যশপ্রীত বুমরাহের পর তৃতীয় ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টি২০ বিশ্বকাপে ‘ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ সম্মান জিতে নেন সঞ্জু।
ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের কঠিন সময়ের কথা মনে করেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান ক্রিকেট কিংবদন্তি সচিন তেণ্ডুলকরের প্রতি। ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় মাস্টার ব্লাস্টারের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছিলেন তিনি।


সঞ্জু বলেন, “সচিন পাজির মতো একজন কিংবদন্তি আমাকে পরামর্শ দিচ্ছেন—এর থেকে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে! যারা সব সময় আমাকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।”
নিজের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “সবটাই যেন স্বপ্নের মতো লাগছে। ২০২৪ বিশ্বকাপে আমি খেলতেই পারিনি। কিন্তু তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, একদিন আমিও খেলব এবং দেশের জন্য কিছু করব। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু হয়তো ঈশ্বর আমার জন্য অন্য কোনও গল্প লিখে রেখেছিলেন। স্বপ্ন দেখার সাহস রাখার পুরস্কার পেয়েছি আজ।”









