২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু ভারতের শিরোপা স্বপ্ন ভাঙেনি, গভীর মানসিক অভিঘাত তৈরি করেছিল দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা-র জীবনেও। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সেই সময়ের কথা স্মরণ করে রোহিত জানালেন, হারের পর তিনি এক পর্যায়ে ক্রিকেট পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
রবিবার মাস্টার্স ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রোহিত বলেন, আমেদাবাদে ফাইনালের পরাজয় তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট যেন তখন তাঁর কাছ থেকে সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল। মনে হয়েছিল, আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান ছিল প্রায় নিখুঁত। ঘরের মাঠে টানা দশটি ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছেছিল ভারত। কিন্তু শেষ ম্যাচেই সব হিসাব বদলে দেয় অস্ট্রেলিয়া। ট্র্যাভিস হেড-এর অনবদ্য শতরান এবং অধিনায়ক প্যাট কামিন্স-এর নেতৃত্বে ছয় উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

ভারতকে ২৪০ রানে আটকে দেওয়ার পর হেডের ব্যাটে স্তব্ধ হয়ে যায় নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে রোহিত জানান, দলের প্রত্যেকেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, এতদূর এসে সব শেষ হয়ে যাবে।
রোহিতের যন্ত্রণা আরও তীব্র হয়েছিল অন্য একটি কারণে। ২০২২ সালে অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি এই বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে নিজেকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে প্রস্তুত করেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমি শুধু কয়েক মাস নয়, অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই এই বিশ্বকাপের জন্য নিজের সবটা উজাড় করে দিয়েছিলাম।’
ফাইনালের পর সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল না পাওয়াটা মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না। ব্যক্তিগত ভাবে সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়েই আবার নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াই শুরু করেছিলেন রোহিত—যার কথা তিনি এখন প্রকাশ্যে বলতে পারছেন।
এই স্বীকারোক্তি শুধু এক অধিনায়কের হার মানার গল্প নয়, বরং চাপ, প্রত্যাশা আর ব্যর্থতার মাঝেও একজন ক্রীড়াবিদের মানসিক সংগ্রামের বাস্তব ছবি তুলে ধরল।



