চার্জশিটে রবার্ট বঢরা, ইডির নতুন পদক্ষেপে বাড়ল রাজনৈতিক চাপ

প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আর্থিক তছরুপ মামলায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট বঢরার বিরুদ্ধে দিল্লি আদালতে চার্জশিট জমা দিল ইডি; তদন্তে উঠে এল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারির যোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইডির নতুন চার্জশিটের জেরে ফের রাজনৈতিক চাপের মুখে রবার্ট বঢরা। আর্থিক তছরুপ ও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত মামলায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী তথা কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী রবার্ট বঢরার বিরুদ্ধে সম্প্রতি দিল্লির আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারি, যিনি ইউপিএ আমলে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিতে অর্থ লেনদেনে মূল ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

ফোকাস কীওয়ার্ড “রবার্ট বঢরা” এই মামলার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই গভীরভাবে যুক্ত, কারণ ইডির দাবি—সঞ্জয় ভাণ্ডারির মানি লন্ডারিং তদন্তে বঢরার নাম উঠে এসেছে।

ইডির সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসেই রবার্ট বঢরাকে নোটিস পাঠানো হয়। নির্দেশ মেনে তিনি দিল্লির এপিজে আব্দুল কালাম রোডের ইডি দফতরে হাজিরা দেন এবং দীর্ঘ জেরা পর্বে অংশ নেন। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, বিভিন্ন লেনদেন ও বিদেশি সম্পত্তির নথিতে মিল পাওয়া গেছে একাধিক অসঙ্গতি।

চার্জশিটে রবার্ট বঢরা, ইডির নতুন পদক্ষেপে বাড়ল রাজনৈতিক চাপ

অন্যদিকে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সঞ্জয় ভাণ্ডারিকে আগেই পলাতক ঘোষণা করেছে আদালত। ইডির আবেদনের ভিত্তিতে গত ৫ জুলাই দিল্লির আদালত তাঁকে ‘প্রোক্লেমড অফেন্ডার’ ঘোষণা করে। বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন এই ব্যবসায়ী, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ—বিদেশি প্রতিরক্ষা সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বেআইনি ভাবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি, যার মধ্যে বড় অংশই বিদেশের সংস্থাগুলির মাধ্যমে ঘোরানো হয়েছিল।

২০২০ সালের জুলাই মাসে তাঁকে লন্ডনে গ্রেপ্তার করা হলেও, ১.২ মিলিয়ন ডলার ও তাঁর পাসপোর্ট জমা রেখে জামিন পান তিনি। তারপর থেকে সেন্ট্রাল লন্ডনে গৃহবন্দি থেকে প্রতিদিন থানায় রিপোর্ট করার নির্দেশ ছিল তাঁর। ভারত সরকার তাঁকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কারণ তদন্তে সামনে এসেছে দুবাইয়ের একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের তথ্য।

চার্জশিটে রবার্ট বঢরা, ইডির নতুন পদক্ষেপে বাড়ল রাজনৈতিক চাপ
চার্জশিটে রবার্ট বঢরা, ইডির নতুন পদক্ষেপে বাড়ল রাজনৈতিক চাপ

এই মামলায় রবার্ট বঢরার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ অতীতে তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চান তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের টিকিট চেয়ে প্রকাশ্যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। যদিও দল তাঁকে প্রার্থী করেনি। এমনকি স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী উপনির্বাচনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও, বঢরা ফের জানিয়ে দেন যে ভবিষ্যতে সাংসদ হওয়ার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে। কিন্তু হাত শিবির তা গ্রহণ করেনি।

এখন ইডির রবার্ট বঢরা চার্জশিট জমা দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ফের তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ। সংস্থার দাবি, তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন সমনও পাঠানো হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—ইডির এই পদক্ষেপ কি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর সঙ্গে আগামী রাজনৈতিক সমীকরণের কোনও যোগ রয়েছে? আপাতত এই চার্জশিটকে কেন্দ্র করে তীব্র জল্পনা অব্যাহত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত