এক সময় বলিউডের হাসির মুখ ছিলেন তিনি, কিন্তু জীবনের মঞ্চে এখন যেন একা লড়াই করছেন রাজপাল যাদব। ৯ কোটির ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন জনপ্রিয় এই কৌতুক অভিনেতা। নিজেই জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি কার্যত ‘বন্ধুহীন’, আর এই কঠিন সময় তাঁকেই একা সামলাতে হচ্ছে।
নাটকের মঞ্চ থেকে অভিনয়ের পথচলা শুরু হয়েছিল রাজপালের। ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে করতে ২০০০ সালে জঙ্গল ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেন।

তবে দর্শকের কাছে তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হন কৌতুকাভিনেতা হিসেবে। হাঙ্গামা, গরম মশালা, চুপ চুপ কে, মালামাল উইকলি, ফির হেরা ফেরি, ভাগম ভাগ, ভুল ভুলাইয়া, হলচল—এমন অসংখ্য ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের হাসিয়েছে।
২০০৭ সালে ভুল ভুলাইয়া ছবিতে ‘ছোট পণ্ডিত’-এর চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান রাজপাল। পরে ভুল ভুলাইয়া ২-তেও তাঁকে স্বল্প সময়ের জন্য দেখা যায়। শোনা যায়, আর্থিক চাপে পড়েই ওই ছবিতে ছোট ভূমিকায় অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন তিনি।
গত কয়েক বছরে তাঁর কেরিয়ার ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনায় হাত দিতে চেয়েছিলেন রাজপাল। সেই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনে বড় আর্থিক সংকট ডেকে আনে।


২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া Ata Pata Laapata ছবির জন্য একটি সংস্থার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নেন তিনি। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় সেই ঋণ শোধ করতে পারেননি। সংস্থার দাবি, তাঁর দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স করে। এরপরই শুরু হয় আইনি লড়াই।
২০১৩ সালে চেক বাউন্স মামলায় চার দিন জেলেও কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। মামলাটি চলতে চলতে ঋণের পরিমাণ সুদসহ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটিতে। ২০১৮ সালেও একই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং তিন মাসের সাজা হয়।

সূত্রের খবর, ২০২৫ সালে ৭৫ লক্ষ টাকা শোধ করলেও পরে আড়াই কোটির একটি চেক বাউন্স হয়ে যায়। দিল্লি হাই কোর্ট সাতটি মামলার জন্য ১.৩৫ কোটি টাকা করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সেই টাকা জোগাড় করতে পারেননি অভিনেতা।
সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন রাজপাল। আত্মসমর্পণের আগে তিনি বলেন, “আমার কাছে টাকা নেই। আমি এখানে একা। কোনও বন্ধু নেই। এই সময়টা আমাকেই একা পার করতে হবে।”
তবে পুরোপুরি একা নন তিনি। অভিনেতা সোনু সুদ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে একটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। টেলি অভিনেতা গুরমীত চৌধুরীও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। বিহারের রাজনৈতিক নেতা তেজপ্রতাপ যাদবও ১১ লক্ষ টাকা সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।








