বাংলার রাজনৈতিক দিগন্তে নক্ষত্রপতন। বৃহস্পতিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সকাল ৮টা ২০ নাগাদ পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই তিনি প্রয়াত হন। তিনি ছিলেন ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের দ্বিতীয় এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী। ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা এগারো বছর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব। অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত গোটা রাজনৈতিক মহল। শোক প্রকাশ করে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করতে দেখা যায় সমস্ত দলের রাজনৈতিক নেতাদেরও। বৃহস্পতিবার শোক প্রকাশ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। এবার বুদ্ধবাবুর স্ত্রীকে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি লিখলেন তিনি।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অবিচল দূরদৃষ্টি পশ্চিমবঙ্গকে আজ এই রুপদান করেছেন। বরাবরই তিনি অতীতকে পিছনে ফেলে রাজনৈতিক গোঁড়ামি ভেঙে বাংলাকে উন্নয়নের এক আলাদা মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগী ছিলেন। তাঁর সততা ও দূরদৃষ্টিই পশ্চিমবঙ্গকে এক আলাদা উন্নয়নের যুগে নিয়ে গিয়েছেন।


বামপন্থী পরিবারে বেড়ে ওঠার সংস্কৃতি বুদ্ধদেবের উপর প্রগাঢ় প্রভাব ফেলেছিল। আর সততার সাথে তিনি নেমে পড়েন রাজনীতির ময়দানে। তিনি ১৯৬৬ সালে সিপিআই(এম) এর প্রাথমিক সদস্য হিসাবে যোগদান করেন। ২০০০ সালে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রথম থেকেই তিনি রাজ্যে শিল্পস্থাপনের জন্য উদ্যোগী হন। ২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১১ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ২০১১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ৭ম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তার মেয়াদে শক্তিশালী জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের মুখোমুখি হন। এর ফলে ভট্টাচার্য ২০১১ সালের নির্বাচনে হেরে যান যার ফলে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের পতন ঘটে। ২০১১-র নির্বাচনে হারের পর থেকেই বুদ্ধদেবের শরীর ভাঙতে শুরু করে। দলীয় কাজকর্ম থেকেও ক্রমশ অব্যাহতি নিয়ে নেন তিনি।







