‘২০২৬-এ খেলবে মাওবাদীরা!’ ভোটের মুখে পুরুলিয়ায় রহস্যময় পোস্টার, জঙ্গলমহলে কি ফিরছে পুরনো আতঙ্ক?

ভোটের আগে পুরুলিয়ার আঁকরো গ্রামে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার ঘিরে আতঙ্ক। বনধের হুঁশিয়ারি থাকলেও দিনক্ষণ নেই, দুষ্কৃতীদের কাজ বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের মুখে আচমকা ফিরে এল জঙ্গলমহলের পুরনো আতঙ্ক। বুধবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে মাওবাদীদের নামাঙ্কিত রহস্যময় পোস্টার ঘিরে ছড়াল চাঞ্চল্য। যেখানে প্রায় এক দশক ধরে মাওবাদী কার্যকলাপ কার্যত নিশ্চিহ্ন, সেখানে হঠাৎ এমন হুঁশিয়ারি—স্বাভাবিক ভাবেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন ও আতঙ্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে বোরো থানার অন্তর্গত আঁকরো বড়কদম অঞ্চলের আঁকরো গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামের পুকুরপাড়ে লাল কালিতে লেখা একাধিক পোস্টার দেখতে পান। হাতে লেখা সেই পোস্টারগুলিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— “২০২৬-এ এবার খেলবে মাওবাদীরা। বনধ না মানলেই মৃত্যুদণ্ড।” কে বা কারা, কখন এই পোস্টার সাঁটিয়েছে, সে বিষয়ে কোনও ধারণা নেই গ্রামবাসীদের।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রামগুলিতেও শোরগোল শুরু হয়। আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বোরো থানার পুলিশ। পোস্টারগুলি খুলে নেওয়া হয় এবং এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত শুরু করা হয়।

তবে উদ্ধার হওয়া পোস্টার ঘিরে একাধিক অসঙ্গতি চোখে পড়েছে তদন্তকারীদের। পোস্টারে ‘বনধ’-এর ডাক দেওয়া হলেও, কবে বনধ হবে—তার কোনও দিনক্ষণ বা সময়ের উল্লেখ নেই। এই অস্পষ্টতাই রহস্য আরও ঘনীভূত করছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী জেলায় বর্তমানে মাওবাদী সংগঠন-এর কোনও সক্রিয় উপস্থিতি নেই।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান, ভোটের আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই সমাজবিরোধী বা দুষ্কৃতীরা মাওবাদীদের নাম ব্যবহার করে এই পোস্টার লাগাতে পারে। এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা স্থানীয় স্বার্থ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে—পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে আঁকরো-সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। নজরদারি চলছে জঙ্গলমহলের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতেও।

সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে পুরুলিয়ায় এই রহস্যময় পোস্টার নতুন করে উস্কে দিল পুরনো ভয়। তবে এটি বাস্তব কোনও হুমকি, না কি পরিকল্পিত ভয়ের রাজনীতি—তার উত্তর দেবে তদন্তই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন