তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পরিচিত মুখ রাজন্যা হালদার এবং প্রান্তিকের নাম আবারও চর্চায়। বিতর্কিত ছবি এবং দলের ‘দাদা সংস্কৃতি’ নিয়ে সরব হওয়ার পর স্থগিতাদেশের সম্মুখীন হয়েছিলেন দু’জনেই। সেই সময় থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছিল একটিই প্রশ্ন—দলবদল কি সময়ের অপেক্ষা? এবার সেই জল্পনা যেন নতুন করে ফিরে এসেছে। কারণ, রাজন্যার সাম্প্রতিক মন্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে মালা দেওয়া একটি ছবি পোস্ট করেন রাজন্যা। ক্যাপশনে লেখেন, “আমার বাংলা রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। গণতন্ত্র ধার চাই। লেটস চেঞ্জ।” এই “পরিবর্তন”-এর ডাককে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষত যখন জানা যাচ্ছে, তাঁরা আজই তৃণমূল ছাড়তে পারেন।
দলবদল না সময়ের দাবি? বিজেপিতে যাচ্ছেন প্রান্তিক–রাজন্যা জুটি!
প্রান্তিক–রাজন্যা জুটি গত এক বছরে বহুবার শাসকদলের অস্বস্তির কারণ হয়েছেন। রাজন্যার উল্কার মতো উত্থান যত দ্রুত হয়েছিল, স্থগিতাদেশের পর পতনও হয় সেই গতিতেই। দলের ভিতরে ‘গণতন্ত্রের সংকট’, ‘দাদা সংস্কৃতি’—এই শব্দগুচ্ছ মুখে এনে তাঁরা তৃণমূলকে চাপে ফেলেছিলেন। সেই সময়েই তাঁদের কাছে ফোন গিয়েছিল বিজেপি নেতা সজল ঘোষের। যদিও তখন দু’জনেই বিজেপিতে যাওয়ার প্রশ্নকে এড়িয়ে যান—বলেন, সময়ই বলবে।
এবার সেই ‘সময়’ যেন এসে উপস্থিত।
সূত্রের দাবি, খুব সম্ভবত আজই দলবদল হতে পারে। প্রান্তিক–রাজন্যার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছাত্রনেতাও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-যুবদের কাছে রাজন্যা–প্রান্তিকের ভাবমূর্তি ব্যবহার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির, যার ফলে তাঁদের যোগদান বিজেপির জন্য লাভজনক হতে পারে।
সোমবার TV9 বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হলে, বিজেপিতে যোগদানের প্রশ্নে তাঁরা এড়িয়ে না গিয়ে বরং আরও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রাজন্যা বলেন, “রাজনীতিতে সবই সম্ভাবনাময়। সময় উত্তর দেবে।”
প্রান্তিকের বক্তব্য আরও তাত্পর্যপূর্ণ—“আমি দলবদল কথায় বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি ভাবনার পরিবর্তনে। আমি শুধুমাত্র সময়ের চাহিদাটা বুঝি। সময়ই বলবে।”
এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা নতুন করে জ্বলে ওঠা স্বাভাবিক। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে যেভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবকদের একাংশ সোচ্চার হচ্ছে, সেখানে রাজন্যাদের সম্ভাব্য দলবদল তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রাজন্যা যেভাবে “রক্তাক্ত বাংলা”, “গণতন্ত্র ধার চাই” শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন, তা গেরুয়া শিবিরের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, প্রান্তিক–রাজন্যার মতো পরিচিত ছাত্রনেতাদের বিজেপিতে যাওয়া হলে তা প্রতীকী দিক থেকে বড় বার্তা দেবে। তাদের অভিযোগ—দলের ভিতরে অপমানিত-বঞ্চিত নেতাদেরই অন্য দলে যেতে হচ্ছে—এই বয়ানকে আরও শক্তি দেবে।
এখন নজর আজকের সম্ভাব্য ঘোষণার দিকে। তাঁরা সত্যিই দল ছাড়বেন কিনা, সময়ই বলবে। তবে একথা নিশ্চিত—দু’জনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে দলবদল-এর রাজনীতি নতুন করে উসকে উঠেছে, আর সেই আগুনেই রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তপ্ত।







