২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি, দেশের ৭৬তম সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপিত হয়েছে। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “গণতন্ত্র, মর্যাদা এবং ঐক্য আমাদের শিকড়। সংবিধান তা নিশ্চিত করেছে।” তিনি আরো বলেন, “এই সংবিধান তৈরিতে অবদান রেখেছেন বহু পুরুষ ও মহিলা। সেই সংবিধান প্রণেতাদের আমার বিনম্র প্রণাম।” প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সংবিধান ও গণতন্ত্রের গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরে, তবে এতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না।
এদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাধারণতন্ত্র দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, “মোদি সরকারের আমলে ভারতীয় সংবিধানের সব পবিত্র রক্ষক বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ধর্মীয় মৌলবাদের আগ্রাসনে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে। সংখ্যালঘু, দলিত, অনগ্রসর এবং গরিবদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।”
খাড়গে আরো বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষদের বিরুদ্ধে গোয়েবেলিয় ধাঁচে বদনাম করা হচ্ছে এবং সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষা করা এখন অত্যন্ত জরুরি।” তিনি মণিপুর পরিস্থিতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন এবং অভিযোগ করেন যে, সংবিধানের মূল্যবোধগুলো হুমকির মুখে রয়েছে।
এদিনের এই বিতর্কিত রাজনৈতিক মন্তব্যগুলো ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতের রাজনীতিতে সংবিধান বিষয়ক বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলেছে। বিরোধীরা দাবি করছেন যে, মোদি সরকার সংবিধান বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে।
সংবিধান, গণতন্ত্র, এবং সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষা করা আজকের দিনে বাংলাদেশের এবং ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে, তবে সাধারণতন্ত্র দিবসের এমন আলোচনায় এসব বিষয় পুনরায় সামনে এসেছে।



