চিকিৎসাধীন এক তরুণীর মৃত্যু ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মৃত রোগীনিকে মারধর করা হয়েছে—এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে তুমুল হইচই শুরু হয়। ক্ষুব্ধ পরিবারের তরফে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি—অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈশাখী খান নামে বছর কুড়ির এক তরুণী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কয়েকদিন আগে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের দাবি, প্রথম থেকেই চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। রবিবার সকালে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় বৈশাখীর। তার পরই চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মৃতার পরিবার।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত এক নার্সের বিরুদ্ধে। মৃতার স্বামী আজিজুল খান অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসাকালীন রোগীকে শারীরিক ভাবে আঘাত করা হয়েছিল। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা তীব্র হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয় বলেও জানা গিয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় কাউন্সিলর মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও ঘটনার ব্যাখ্যা চান। অন্যদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার ইন্দ্রনীল সেন মারধরের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ বা অস্থির রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনে নার্স ও চিকিৎসকদের কঠোর হতে হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে জোর করে ওষুধ দেওয়াও চিকিৎসার অঙ্গ—কিন্তু সেটিকে মারধর বলা ঠিক নয়।
হাসপাতাল সুপার আরও দাবি করেন, রোগীদের সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তবে এই ঘটনায় ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় ফের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিবেশ, রোগী-পরিজনের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আচরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে গেল।



