স্নানঘরে পড়ে আবার হাসপাতালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জামিনে মুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর উদ্বেগ বাড়াল চোট

বাড়ির স্নানঘরে পড়ে বাঁ হাতে চোট পান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ব্যথা বাড়ায় ফের ভর্তি করা হল বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে। আদালত ইতিমধ্যেই তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তিন বছর তিন মাস ১৯ দিনের কারাবাসের পর গত ১১ নভেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু মুক্তির মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও শারীরিক সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হল তাঁকে। স্নানঘরে পিছলে পড়ে গিয়ে বাঁ হাতে চোট পাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নাকতলার বিজয়কেতন আবাসনে স্নান করতে গিয়ে পড়ে যান পার্থ। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসককে বাড়িতে ডাকা হয়। চিকিৎসক প্রথমে প্রাথমিক শুশ্রূষা করলেও শুক্রবার সকালে তাঁর হাতের ব্যথা হঠাৎই বেড়ে যায়। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বাইপাসের একই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি কারাবন্দি থাকা অবস্থার শেষ আট মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হাসপাতালে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন—গুরুতর চোট পেলেও হাত ভাঙেনি। তবে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। হাসপাতালের বিশেষ কেবিনে তাঁকে রাখা হয়েছে এবং আপাতত ছুটি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই চিকিৎসকদের। তাঁদের মতে, বয়স, শারীরিক দুর্বলতা এবং পূর্ববর্তী অসুস্থতার ইতিহাস বিবেচনায় পার্থকে আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার।

এই সময়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সাথেও মিল পাওয়া যাচ্ছে। ক’দিন আগেই তিনিও স্নানঘরে পড়ে পা ভেঙেছিলেন। সেই খবর জেনে ফোন করে তাঁর আরোগ্য কামনা করেছিলেন পার্থ। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস—নিজেই এখন একই পরিস্থিতিতে হাসপাতালে শয্যাশায়ী।

মুক্তির পর প্রথম দু’দিন খুব সক্রিয় ছিলেন এই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। অনুগামীদের সঙ্গে দেখা, সংবাদমাধ্যমে একাধিক মন্তব্য—সব মিলিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিজের অবস্থান পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিনি। বিধানসভায় বক্তৃতা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, বেহালা পশ্চিমের জনতার উদ্দেশে খোলা চিঠিও লেখেন। এমনকি নিজের সাসপেনশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও চিঠি পাঠান।

কিন্তু ১৩ নভেম্বর থেকে আচমকাই পুরোপুরি জনসমক্ষে আসা বন্ধ করেন তিনি। বিধানসভা এলাকায় যাননি, অনুগামীদের সঙ্গেও দেখা করেননি। রাজনৈতিক মহলে তখন থেকেই জল্পনা—স্বাস্থ্য না কি কৌশল? সেই সময়েই নতুন দুর্ঘটনা ঘটল স্নানঘরে পড়ে, আর তার জেরে হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি

এদিকে, আদালতে সাম্প্রতিক এক শুনানিতে তাঁর অনুপস্থিতি দেখে বিচারপতিরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—
জামিনে থাকা অভিযুক্ত শুনানির দিনে অনুপস্থিত থাকলে তা গুরুতর বিষয়, ভবিষ্যতে এমন হলে জামিন বাতিল করা হবে।

পার্থের আইনজীবীর যুক্তি ছিল—অসুস্থতার কারণে হাজির হতে পারেননি। কিন্তু আদালত তা মানতে রাজি হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “অভিযুক্তের দায়িত্ব হল সময়মতো আদালতে হাজির থাকা। অসুস্থতা থাকলে আগেই জানানো উচিত।”

এছাড়া আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে—আগামী শুনানিতে অবশ্যই তাঁকে হাজির থাকতে হবে এবং তাঁর জামিনের শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। তদন্তকারী সংস্থাকেও প্রয়োজনীয় তথ্য-নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই অবস্থায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুর্ঘটনার সত্যতা নিয়ে কোনও সন্দেহ না থাকলেও রাজনৈতিক মহলে অনেকে বলছেন, এই পরিস্থিতি তাঁর আইনি অবস্থাকেও আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, মুক্তির পর থেকে রাজনৈতিক উপস্থিতি, ব্যক্তিগত অবস্থান এবং স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে পার্থকে ঘিরে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত