বাংলা সংবাদমাধ্যমের পরিচিত মুখ পাপিয়া সিংহ দেবনাথ আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৪৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন এবিপি আনন্দ (ABP Ananda)-র সাংবাদিক ও সঞ্চালিকা। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর সকালে তাঁর জীবনাবসান হয়। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলা সংবাদমাধ্যমের সহকর্মী ও পরিচিতজনেরা।
টেলিভিশনের পর্দায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিচিত কণ্ঠ শুনেছেন বাংলার দর্শক। খবর পড়া থেকে সরাসরি সম্প্রচার—বিভিন্ন সময়ে সংবাদ উপস্থাপনার দায়িত্ব সামলেছেন পাপিয়া। তাঁর স্বচ্ছ উচ্চারণ, সংযত উপস্থাপনা এবং খবরকে সহজ ভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরার দক্ষতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
সাংবাদিকতা তাঁর কাছে শুধু স্টুডিয়োয় দাঁড়িয়ে খবর পড়ার কাজ ছিল না। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা ধরনের খবর ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ‘স্টার আনন্দ’-এর সময় থেকে শুরু করে এবিপি আনন্দের দীর্ঘ পথচলায় তাঁর পেশাগত পরিচয় আরও দৃঢ় হয়।
সংবাদ উপস্থাপনার পাশাপাশি সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন পাপিয়া। রাজনৈতিক খবর, সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা, বিনোদন কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ—বিভিন্ন ধরনের বিষয় দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। টেলিভিশনের নিয়মিত দর্শকদের কাছে তাই তাঁর মুখ ও কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল পরিচিত।
তবে কর্মজীবনের পাশাপাশি গত কয়েক বছর তাঁর জীবনে চলেছে অন্য এক লড়াই। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছিলেন পাপিয়া। চিকিৎসার পাশাপাশি নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কাজের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অসুস্থতার মধ্যেও জীবনের প্রতি তাঁর ইতিবাচক মনোভাবের কথা সহকর্মীদের স্মৃতিতে উঠে আসছে।
কাজের বাইরেও প্রকৃতির প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল। বাগান করা এবং ফুলের প্রতি ভালবাসার নানা মুহূর্ত তিনি সামাজিক মাধ্যমেও ভাগ করে নিয়েছেন। ব্যস্ত সংবাদজীবনের বাইরে এই ছোট ছোট আনন্দই ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম অবলম্বন।
পাপিয়ার প্রয়াণে আরও একটি বিষয় ফিরে আসছে সংবাদমাধ্যমের সহকর্মীদের স্মৃতিতে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রয়াত সাংবাদিক ও সঞ্চালিকা সন্দীপ্তা চট্টোপাধ্যায়কে সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন পাপিয়া। সংবাদজগতের এক সহকর্মীকে হারানোর সেই বেদনার কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকেই হারাতে হল তাঁকে।
মাত্র ৪৭ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া তাই শুধু একটি পরিচিত টেলিভিশন মুখের অনুপস্থিতি নয়। একটি দীর্ঘ কর্মজীবনের হঠাৎ থেমে যাওয়া। যে কণ্ঠ বহু বছর ধরে দর্শককে খবর শুনিয়েছে, সেই কণ্ঠ আর কোনও নিউজ বুলেটিনে শোনা যাবে না।
সাংবাদিকতার পেশায় প্রতিদিনের কাজের মধ্যে দিয়ে যে পরিচয় তৈরি হয়, তা একটি মানুষের চলে যাওয়ার সঙ্গে মুছে যায় না। সহকর্মীদের স্মৃতি, কাজের মুহূর্ত এবং দর্শকের মনে তৈরি হওয়া পরিচিতি থেকেই যায়। পাপিয়া সিংহ দেবনাথের ক্ষেত্রেও সেই স্মৃতিই তাঁর দীর্ঘ পেশাগত জীবনের সাক্ষ্য হয়ে থাকবে।
বাংলা সংবাদমাধ্যমের একজন সহকর্মীকে হারানোর এই বেদনার মুহূর্তে পাপিয়া সিংহ দেবনাথের পরিবার, সহকর্মী ও পরিজনদের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।
পাপিয়া সিংহ দেবনাথের স্মৃতির প্রতি নজরবন্দি-র পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা।



