সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের করা মন্তব্যের পর ভারত শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে পাল্টা আক্রমণ করেছে। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্ভাথানেনি হরিশ, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ ইসহাক দারের মন্তব্যের পর সরাসরি পাকিস্তানকে বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের ভরকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যা সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং এর বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলার কোনো অধিকার তাদের নেই।
পাকিস্তানের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় পাল্টা আক্রমণ
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ আরেকটি উন্মুক্ত ক্ষত এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সর্বদা বিদ্যমান হুমকি।” পাকিস্তান দাবি করেছে যে, জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার তারা পায়নি। তবে, ভারতের রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্ভাথানেনি পাকিস্তানের এ ধরনের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান ২০টিরও বেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দিয়েছে এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করছে।


পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক
হরিশ উল্লেখ করেছেন, জইশ-ই-মহম্মদ, হরকত-উল-মুজাহিদিনের মতো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং পাকিস্তান তাদের সহায়তা করছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের মিথ্যা তথ্য ও প্রচার সত্যিকার পরিবর্তন আনার পরিবর্তে শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে গণতন্ত্রের সফলতা
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হরিশ আরও বলেন, গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচন সেদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। তিনি দাবি করেন, “জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের পছন্দ ছিল স্পষ্ট এবং শক্তিশালী। জম্মু ও কাশ্মীরের গণতন্ত্র পাকিস্তানের মতো নয়।”
ভারতীয় প্রতিনিধির এই বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সেখানে পাকিস্তানের উপস্থিতি শুধুমাত্র অবৈধ দখলদারিত্বের একটি উদাহরণ।









