পাকিস্তানের নাটক অব্যাহত, দল ঘোষণার পরেও T20 বিশ্বকাপ না খেলার হুমকি

দল ঘোষণা করেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা এখনও নিশ্চিত নয় পাকিস্তানের, সরকারের নির্দেশ না এলে বয়কটের পথেই হাঁটতে পারে PCB।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দল ঘোষণা করেও শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছনো গেল না—আবারও নাটকীয় মোড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। ICC Men’s T20 World Cup 2026-এ পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনও ধোঁয়াশায়। ১৫ সদস্যের দল প্রকাশের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে খেলার পথেই হাঁটছে পাকিস্তান। কিন্তু বাস্তবে সেই ধারণায় জল ঢেলে দিলেন Pakistan Cricket Board-এর চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—দল ঘোষণা মানেই বিশ্বকাপে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত। আগামী মাসেই টুর্নামেন্ট শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার থেকে সবুজ সঙ্কেত মেলেনি। সেই কারণেই বোর্ডের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার আগে ও পরে প্রকাশ্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান। সেই আবহেই সলমন আলি আগাকে অধিনায়ক করে দল ঘোষণা করে PCB। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, ICC-র চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছে পাকিস্তান। কিন্তু নাকভি স্পষ্ট করে জানান, বোর্ডের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

লাহোরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে এবং প্রধান কোচ মাইক হেসন-এর উপস্থিতিতে নাকভি বলেন, “বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সরকারের হাতে। সরকার যদি না যাওয়ার নির্দেশ দেয়, সেটাও আমরা মেনে নেব।”

PCB-র এক বিবৃতিতে জানানো হয়, খেলোয়াড়দের বোর্ডের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভারতের আয়োজনে হওয়া এই টুর্নামেন্ট থেকে যে কোনও মুহূর্তে পাকিস্তান সরে দাঁড়াতে পারে—এই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে দলকে।

নাকভি ফের অভিযোগ তোলেন, ICC বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা করেছে। তাঁর দাবি, অন্য অনেক ঘটনায় নমনীয়তা দেখানো হলেও বাংলাদেশকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। আগেই ICC-কে চিঠি দিয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানায় এবং ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় ICC-র বৈঠকে ভোটাভুটি হয়। সেখানে ১৪–২ ভোটে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত যায়। বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয় কেবল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

এর মধ্যেই পাকিস্তানের উপর চাপ আরও বাড়িয়েছে ICC। বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ যে পথ বেছে নিয়েছিল, পাকিস্তান সেই পথে হাঁটলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় রয়েছে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, PSL-এর জন্য বিদেশি ক্রিকেটারদের NOC না পাওয়া এবং এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম অগ্রাহ্য করার পরই ICC তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। আপাতত গ্রুপ ‘এ’-তে পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে ভারত, আমেরিকা, নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডস। তবে সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ভাগ্য যে কোনও দিকেই মোড় নিতে পারে—তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন