নজরবন্দি ব্যুরোঃ নারদ কান্ডে মমতা দিদির পাশেই বিরোধী দলনেতারা! নির্বাচনের আগে বাংলায় গেরুয়া শক্তিকে রুখে দেওয়ার জন্য দেশের একাধিক অবিজেপি রাজনৈতিক দল্গুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছিলো। রাজ্যে এসে দেখা করেছেন কেউ কেউ, কেউ আবার বারবার বার্তা পাঠিয়েছেন পাশে থাকার। সমাজবাদি পার্টির তরফ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে বাংলায় প্রচার করতে এসেছিলেন জয়া বচ্চনও।
আরও পড়ুনঃ অতীত সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারালেন মারণ করোনাতে
২১ এর নির্বাচনে মমতার বিপুল জয়ে খুশি দেশের সকল বিরোধী দল। প্রসংশা এসেছে ভুরি ভুরি, এমনকি এই মুহুর্তে মোদী বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলির মধ্যে থেকে আগামী লোকসভা নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে মমতার নামই ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে রাজনীতির অন্দরে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে গত দুদিন ধরে যে নারদ কান্ডের ঝড় বইছে, তাতেও দিদির পাশেই দেখা গেলো বিরোধী দল গুলিকে।
রাজ্যের দুই মন্ত্রী, এক বিধায়ক এবং প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেপ্তারি এবং রাজ্যের রাজ্যপালের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ঘাসফুল শিবিরের দাবী বাংলায় নিজেদের পরাজয় হজম করতে না পেরেই এসব করছে বিজেপি। একই কথা শোনা গিয়েছে আরজেডি নেতা মনোজ কুমার ঝাঁর মুখেও। ৪ নেতা মন্ত্রীর গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে গত কাল সিবিআই যা করেছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কয়েক বছর ধরে মোদী সরকার যা করছে, তাতে এটাই প্রত্যাশিত ছিল।” সঙ্গে রাজ্যপালের ভূমিকা প্রসনে তিনি বলেছেন, “জগদীপ ধনখড়ই পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত বিরোধী নেতা! মনে হয়, দিল্লির শাসকেরা পশ্চিমবঙ্গের বিপুল পরাজয় এখনও হজম করে উঠতে পারেননি।’’
সিপিআই এর সাধারন সম্পাদক ডি রাজাও এই ঘটনায় বিজেপির অন্য উদ্দেশ্য দেখছেন। তিনি স্পস্ট জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল না থাকলেও এই মুহুর্তে তাঁর সরকারের সঙ্গে যা ঘটছে তাতে কার্যত দিদির পাশের আছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, “আমাদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এখন যা ঘটছে, তা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা টিঁকিয়ে রাখার প্রশ্ন। বিজেপি কিছুই মানছে না। এই গ্রেপ্তারির সময় এবং প্রেক্ষাপট বিচার করে এটাই মনে হচ্ছে, বিজেপির অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে এসবের পিছনে।’’
নারদ কান্ডে মমতা দিদির পাশেই বিরোধী দলনেতারা! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে দেখা গেছে শিবসেনাকেও। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “মোদী সরকার যে ভাবে সিবিআই-কে কাজে লাগাচ্ছে সেটা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক চাল। আর রাজ্যপাল যে ভাবে রাজনৈতিক আগ্রহ দেখাচ্ছেন, দেশবাসী তা ভাল ভাবে মেনে নেবে না’’ সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর ছাড় পাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে একাধিক মহল থেকে।



