ক্ষিণবঙ্গের পর এবার উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিকেল পাঁচটায় উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে বসবেন তিনি, যেখানে উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সফরের আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ফের কেন্দ্র সরকারকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী, অভিযোগ তুলে বললেন, ‘বাংলার বন্যার কেউ খোঁজ নেয়নি, একটা পয়সাও দেয়নি।’
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার ফরাক্কা ব্যারাজের ড্রেজিং সঠিকভাবে করছে না, যার ফলে পলি জমে ব্যারাজের জল ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। তাঁর দাবি, ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফারাক্কায় যদি ড্রেজিং করা হতো, তাহলে আরও ২-৩ লক্ষ কিউসেক জল ধরে রাখা যেত এবং মালদা জেলার বিস্তীর্ণ অংশে এত ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।’
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা, বিশেষ করে কালিম্পং ও দার্জিলিং-এ ব্যাপক ধস নেমেছে। পাহাড়ি রাস্তাগুলোতে ভারতীয় সেনার গাড়ি চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান মমতা। সেনার কোনও প্রতিনিধি আজকের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি। না থাকলে তিনি সেনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে এবং প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকা এলাকাগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এর আগেও ডিভিসিকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন এবং ডিভিসির সঙ্গে প্রশাসনিক সম্পর্ক ছিন্ন করারও ঘোষণা করেছিলেন। ইতিমধ্যে ডিভিসির কমিটি থেকে রাজ্যের দুই প্রতিনিধি পদত্যাগ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রের দায়িত্বহীনতার জন্যই রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং তিনি কেন্দ্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



