বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ, উপমুখ্যমন্ত্রী চিরাগ, স্পিকার বিজেপির—আগামীকাল শপথ

এনডিএ-র বিপুল জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত—গান্ধী ময়দানে ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা, নীতীশ দশমবার মুখ্যমন্ত্রী

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—কে হচ্ছেন বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? আজ সেই জল্পনার অবসান প্রায় নিশ্চিত। এনডিএ শিবিরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ কুমার। আর উপমুখ্যমন্ত্রী পদে দেখা যেতে পারে লোজপা (রামবিলাস) প্রধান চিরাগ পাসোয়ানকে। আগামীকাল, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, গান্ধী ময়দানে হবে নতুন এনডিএ সরকারের শপথ অনুষ্ঠান—যা হবে বিহারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শপথগ্রহণ বলেই দাবি শাসক জোটের।

এদিকে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ নভেম্বর। তার আগেই সমস্ত সাংবিধানিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে চাইছে এনডিএ। সেই মতো বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন নীতীশ কুমার—এই খবরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিহারজুড়ে। সূত্রের খবর, সকালে তিনি প্রথমে জেডিইউ বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হবেন। এরপর বিকেলে এনডিএ বিধায়ক দলও তাঁকে নেতা হিসেবে মনোনীত করবে। এই দুই ধাপের পরই তিনি পুরনো সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়বেন এবং নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের সূক্ষ্ম রাজনৈতিক বার্তাই হচ্ছে—পুরনো অধ্যায়ের সমাপ্তি, এবং এক নতুন জোট-সমীকরণে নীতীশ কুমারের প্রত্যাবর্তন। ২০০৫ সাল থেকে বিহার রাজনীতির প্রধান মুখ হয়ে ওঠা নীতীশ এবার দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ, উপমুখ্যমন্ত্রী চিরাগ, স্পিকার বিজেপির—আগামীকাল শপথ

আগামীকালকের শপথ অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন। এনডিএ শিবির দাবি করছে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং নির্বাচনী সাফল্যের পরে তারা এমন একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভা তৈরি করতে চাইছে, যেখানে অভিজ্ঞতা এবং তরুণ নেতৃত্ব—দুয়েই জায়গা পাবে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ, উপমুখ্যমন্ত্রী চিরাগ, স্পিকার বিজেপির—আগামীকাল শপথ
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ, উপমুখ্যমন্ত্রী চিরাগ, স্পিকার বিজেপির—আগামীকাল শপথ

উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। বিজেপির একাংশ একজন উপমুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে হলেও, জেডিইউ চাইছে যদি স্পিকার পদের দায়িত্ব বিজেপিকে দেওয়া হয়, তাহলে উপমুখ্যমন্ত্রী একজনই থাকুক। ফলে পদ বণ্টনে লিঙ্গ, জাতি ও আঞ্চলিক সমীকরণও গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্ত্রিত্ব বণ্টনে ‘৬ বিধায়ক = ১ মন্ত্রী’ সূত্রে হিসেব চলছে। সেই অনুযায়ী, এলজেপি (রামবিলাস) পেতে পারে তিনটি দফতর, আর দুটি ছোট দল—আরএলএম ও হাম (এস)—পেতে পারে একটি করে মন্ত্রিত্ব। সর্বোচ্চ ৩৬ জন মন্ত্রী নিয়ে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করেছে, এনডিএ পেয়েছে মোট ২০২টি আসন—যা তাদের সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। ফলে সরকার গঠনে কোনও বাধা নেই।

বিহারের রাজনৈতিক ইতিহাসে নীতীশ কুমারের এই প্রত্যাবর্তন শুধু সংখ্যার খেলা নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জেডিইউ, বিজেপি ও লোজপা (রামবিলাস)-এর নতুন জোট সমীকরণ আগামী পাঁচ বছরের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই জোটের নেতৃত্ব আবারও তাঁরই হাতে—নীতীশ কুমার।

আগামীকালকের শপথ অনুষ্ঠানে বিহার দেখবে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা—যেখানে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ, আর তাঁর পাশে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছেন চিরাগ পাসোয়ান। রাজনৈতিক মহল বলছে, এটিই হতে চলেছে বিহারের নতুন ক্ষমতা-সমীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত