দিল্লি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (Rashtriya Swayamsevak Sangh – RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন। শনিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে নির্দেশ দিয়ে নয়, বরং যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে বোঝাতে হবে। তাঁর কথায়, “শুধু ক্ষমতার জোরে বা নির্দেশ দিয়ে কাউকে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আজকের যুবসমাজ প্রশ্ন করে, তাই তাদের সঙ্গে সংলাপই সবচেয়ে জরুরি।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, সময়ের সঙ্গে সমাজ ও পরিবারের সম্পর্কের ধরন বদলেছে। আগে বাবা-মায়ের কথা প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নেওয়ার প্রবণতা ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা জানতে চায়। তাই শুধুমাত্র নির্দেশ দেওয়ার পরিবর্তে তাদের কাছে প্রতিটি সিদ্ধান্তের যুক্তি তুলে ধরতে হবে।
RSS প্রধানের মতে, তরুণদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “আজ ডিক্টেশন নয়, ডিসকাশনের প্রয়োজন। অর্ডার নয়, সচেতনতা গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
মোহন ভাগবত আরও বলেন, পরিবারে কথোপকথনের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। শিশু ও তরুণদের যথেষ্ট সময় দেওয়া এবং তাঁদের মতামত শোনা অত্যন্ত জরুরি। পরিবারের সদস্যরা যদি নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখেন, তাহলে নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখানো অনেক সহজ হবে বলে তাঁর মত।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সমাজে নেতৃত্ব মানে শুধুমাত্র ক্ষমতা প্রয়োগ নয়। মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে তাদের কথা শুনতে হবে এবং যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে হবে। একতরফা নির্দেশের সংস্কৃতি বর্তমান সময়ে কার্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলন এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও তিনি তাঁর বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট আন্দোলনের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংলাপের ওপর তাঁর জোর দেওয়া মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন RSS প্রধান। সম্প্রতি দেশভাগের পর ভারতে আসা মানুষদের ‘শরণার্থী’ না বলে ‘দেশ বেছে নেওয়া মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এছাড়া RSS-র নেতৃত্ব, সংগঠনের কাঠামো এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতেও অতীতে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে।



