জাতীয় দলের দরজা আপাতত বন্ধ। কিন্তু বল হাতে মহম্মদ শামির ধার যে এতটুকু কমেনি, তার আরও একটি প্রমাণ মিলল দলীপ ট্রফিতে। মধ্যাঞ্চলের বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চলের হয়ে জোড়া উইকেট নিয়ে পেশাদার ক্রিকেটে ৯০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন বাংলার তারকা পেসার। জাতীয় দলে ব্রাত্য থেকেও নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে ফের আলোচনায় শামি।
টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পূর্বাঞ্চল। ঈশান কিষান চোটের কারণে না থাকায় দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পান মাত্র ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। পূর্বাঞ্চলের বোলারদের দাপটে প্রথম ইনিংসে ২৬৬ রানে গুটিয়ে যায় মধ্যাঞ্চল।
পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন অভিজিৎ সরকার ও মুকেশ কুমার। শামিও নিজের পরিচিত ছন্দে বল করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নেন। তিনি যশ রাঠোর এবং আর্শাদ খানকে ফিরিয়ে দেন। এই দুই উইকেটের সঙ্গেই পেশাদার ক্রিকেটে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা পৌঁছে যায় ৯০০-তে।
শামির এই মাইলফলক নিছক সংখ্যার বিচারে নয়, ভারতীয় ফাস্ট বোলিংয়ের ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯৯টি ম্যাচের ১৮৬ ইনিংসে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩৭৯ উইকেট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৪৯ ম্যাচে নিয়েছেন ২৮৩ উইকেট। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৯৬ ম্যাচে তাঁর শিকার ২৩৮ ব্যাটার। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৯০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকে পড়েছেন তিনি।
এই কৃতিত্বের মাধ্যমে শামি ভারতীয় ক্রিকেটের ষষ্ঠ ফাস্ট বোলার হিসেবে পেশাদার ক্রিকেটে ৯০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিন ফরম্যাটেই ধারাবাহিক ভাবে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে দেশের অন্যতম সফল পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
তবে পরিসংখ্যান যতই শামির পক্ষে কথা বলুক, জাতীয় দলের ছবিটা এখন সম্পূর্ণ আলাদা। ৩৫ বছর বয়সি এই পেসার নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। রঞ্জি ট্রফি হোক বা আইপিএল—সুযোগ পেলেই বল হাতে তাঁর কার্যকারিতা দেখা যায়। দলীপ ট্রফিতেও সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন দেখা গেল।
ভারতের হয়ে শামির শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। এরপর থেকে জাতীয় দলের নিয়মিত পরিকল্পনায় তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে তাঁর জায়গা পাওয়া নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে। বয়স ও চোটের ইতিহাসের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ভারতের হয়ে শামির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ২০১৩ সালে অভিষেকের পর ৬৪টি টেস্টে ২২৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওয়ানডেতে ১০৮ ম্যাচে তাঁর শিকার ২০৬ ব্যাটার। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকেও ২৫ ম্যাচে ২৭টি উইকেট রয়েছে তাঁর।
এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স যোগ করলে প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়—জাতীয় দলের দরজা কি সত্যিই শামির জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে? বয়স ৩৫ হলেও তাঁর বলের ধার এখনও প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলছে। তবে ২০২৭ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার উপরই নির্ভর করবে।
এই মুহূর্তে শামির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করে যাওয়া। দলীপ ট্রফিতে ৯০০ উইকেটের মাইলফলক সেই যাত্রারই আর একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। জাতীয় দলের বাইরে থেকেও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, উইকেট নেওয়ার অভ্যাস এখনও তাঁর হাত থেকে হারিয়ে যায়নি।



