নজরবন্দি ব্যুরো: পৌঁছলেন ভার্চুয়ালি! পরিকল্পনা সত্বেও শিতলকুচি যেতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের নির্দেশে বাতিল হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি। তাই আজ উত্তরবঙ্গে বসেই সাংবাদিক বৈঠক করে শিতলকুচির নিহতদের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললেন তিনি। বার্তা দিলেন, তিনি যাবেনই, দেখা করবনে তাঁদের সঙ্গে। গতকাল চতুর্থ দফার ভোটে কোচবিহারের শিতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৫ জন।
আরও পড়ুনঃ দেশে ফের রেকর্ড সংক্রমণ! টিকা উত্সবের দিনই মোট আক্রান্ত ১ লক্ষ ৫২ হাজার
ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা রাজ্য, উত্তপ্ত রাজ্য এবং দেশের রাজনৈতিক মহল। শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কেন্দ্র সরকারের প্রতি, পদত্যাগ দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ঘটনার CID তদন্তের কথা ঘোষণা করে গতকালই তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়েছিলেন, এখনো শাসন তাঁর, তাই সিদ্ধান্তও তাঁর। এবং গতকাল বিকেলেই উড়ে গিয়েছেন তিনি উত্তরবঙ্গে। কথা ছিলো আজ যাবেন শিতলকুচি। কিন্তু কমিশনের নির্দেশে আপাতত বাতিল হয়েছে সেই পরিকল্পনা। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৩দিন পর্যন্ত কোচবিহারে ঢুকতে পারবেন না কোনো রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রী।
এমনকি পঞ্চম দফার ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে নির্বাচনী প্রচার বলেও জানানো হয়েছে। কার্যত সেই নিয়মেই আটকে পড়ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজই যেতে পারলেন না শিতিলকুচি। কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা করার পরই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কর্তারা এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়টি মাথায় রাখছেন বলেই জানিয়েছেন। তাঁদের মতে এই পরিস্থিতিতে সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা গেলে তাঁদের গিয়ে অবনতি হতে পারে পরিস্থিতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কমিশনের এই রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীদের প্রবেশে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমুল কংগ্রেসের তরফ থেকে জানানো হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীকে আটকাতেই এই নতুন পরিকল্পনা কমিশনের। অভিযোগ বিজেপির দ্বারা প্রভাবিত হয়েই কাজ করছেন নির্বাচন কমিশনের অধিকারিকরা। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি কমিশন মোদির কথায় চলে অভিযোগ তুলেই তিনি আজ ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন, “তিনদিন রুখতে পারে, ৪ দিনের দিন আমি যাবই কোচবিহার, বিশ্বের কেউ আমাকে রুখতে পারবেনা।” তার পরই তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বদলে নিক নিজেদের নাম।
পৌঁছলেন ভার্চুয়ালি! মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট বদলে নতুন নাম হোক মোদি কোড অফ কন্ডাক্ট। ঠিক তার পরই সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং রবিবাসরীয় সকালে সাংবাদিক বৈঠক থেকেই ভার্চুয়ালি পৌঁছে গিয়েছেন শিতলকুচিতে। ভিডিও কলে কথা বললেন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে। নিহত মনিরুজ্জানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বলেন, বিচার চান তিনি, স্ত্রী, সন্তান, বাবা মা ভাই নিয়ে সংসার রাজমিস্ত্রি মনিরুজ্জানের। বাড়ি এসেছিলেন ভোট দিতে, প্রাণ গেলো। বিচার চান তিনি। কথা বলেছেন নিহত হামিদুল হকের পরিবারের সঙ্গেও, তিনিও পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন, স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। নিহতদের পরিবার দিশেহারা।
তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন সবরকম সাহায্য করা হবে তাঁদের পরিবারকে। বৈঠক থেকেই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষকে গুলি করে মরার পরও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেনো ক্লিনচিট দেওয়া হলো? অভিযোগ করেছেন, সমস্ত তথ্য লুকিয়ে দিতেই এই ৭২ঘন্টার নিষেধাজ্ঞা। তবে ট্যুইটের পর বৈঠক থেকেও তিনি জানিয়েছেন, ৩দিন পরেই তিনি আসছেন। কেউ আটকাতে পারেবন না তাঁকে। নিহতদের পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছেন দেখা করার। সাহায্য করার।



