সারা দেশজুড়ে চলমান ইন্ডিগো ফ্লাইট বিভ্রাট ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন যাত্রীরা। বিমানবন্দরগুলোতে দিন পর দিন আটকে পড়ছেন হাজার মানুষ। এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে তীব্র আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের হঠাৎ নির্দেশে পাইলটদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় উড়ান পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। আর এই বিশৃঙ্খলার সর্বাধিক শিকার সাধারণ যাত্রী।
মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে। পাইলটদের উপর অযথা চাপ দিলে সমস্যা হবেই। কিন্তু কোনও নতুন নিয়ম জারি করার আগে বিকল্প তৈরি করা উচিত ছিল। সাধারণ মানুষের কথা ভাবা হয়নি।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রের আচমকা সিদ্ধান্তই দেশের স্বাভাবিক বিমান চলাচলকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।
গত সাত-আট দিন ধরে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের চোখে পড়ছে বিশৃঙ্খলার চিত্র—বাতিল উড়ান, অনির্দিষ্ট বিলম্ব, বেড়ে যাওয়া টিকিটের দাম এবং রাতভর অপেক্ষা। মমতা জানান, “তিন হাজার টাকার টিকিট ৫০ হাজারে পৌঁছে গিয়েছে। বিয়ের বাড়িতে পৌঁছতে পারছেন না অতিথিরা। এ এমন বিপর্যয়, যা আগে দেখিনি।”
ইন্ডিগো ফ্লাইট বিভ্রাটে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতার, ‘যাত্রীদের হয়রানির অধিকার কে দিল?’
এই ইন্ডিগো ফ্লাইট বিভ্রাট নিয়ে কেন্দ্রের দিকেই সরাসরি প্রশ্ন ছুড়লেন তিনি। তাঁর মতে, কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই নির্দেশ জারি করে কেন্দ্র এ দেশের সাধারণ মানুষকে মরিয়া অবস্থায় ফেলেছে।
তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করার অধিকার কেন্দ্রকে কে দিয়েছে? হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে। কোনও বিকল্প পথই খোলা হয়নি।”
এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। ট্রেনকেও বিকল্প হিসেবে অচল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, “বললেই তো হয় না ট্রেনে যান। ট্রেনেও টিকিট নেই। অন্তত অর্ধেক উড়ান চালানোর মতো ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। কী করছে ওরা? দেশের কোনও চিন্তাই নেই।”
ফ্লাইট বাতিল ও ক্রুর অভাব নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে আরও কড়া বক্তব্য রাখেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, দেশের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার সরে গিয়ে কেন্দ্র এখন রাজনৈতিক লক্ষ্যেই ব্যস্ত। “বিজেপি সরকার কীভাবে ভোট এবং ইভিএম দখল করবে, সেটাই ওদের চিন্তা। মানুষের সুবিধা, মানুষের বিপদ—কোনওটাই ওদের হিসেবের মধ্যে নেই।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রু ডিউটি নিয়মে পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্র ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মধ্যে যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়ছে সরাসরি যাত্রীদের ওপর। উড়ান বাতিল হওয়া বা অনির্দিষ্ট বিলম্বে শুধুই টিকিট নয়, গন্তব্যে না পৌঁছতে পারার কারণে পেশাগত ও ব্যক্তিগত ক্ষতিও পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইন্ডিগো ফ্লাইট বিভ্রাট আর দুর্গতির দিকে এগোচ্ছে। অবিলম্বে কেন্দ্রকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি খারাপের থেকেও খারাপ হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব যাত্রীদের স্বস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এই ক্রমাগত অচলাবস্থা যে জাতীয় স্তরে বড় সংকট তৈরি করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যাত্রী সুরক্ষা এবং এয়ারলাইন পরিচালনা—দুই ক্ষেত্রেই এখন সমন্বিত নীতির প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
মমতার মন্তব্যে পরিষ্কার, তিনি চান অবিলম্বে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করুক এবং যাত্রীদের স্বাভাবিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক।







