ভারতের রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার সমীকরণে ফের নড়াচড়া দেখা গেল। সাম্প্রতিক Mood of the Nation সমীক্ষা বলছে, সারা দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা বাড়লেও, নিজের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কমেছে আগের তুলনায় অনেকটাই।
দেশজুড়ে মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় যোগী শীর্ষে
সমীক্ষায় প্রকাশ, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী হলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর জনপ্রিয়তার হার ৩৬ শতাংশ। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁর জনপ্রিয়তার হার ১২.৫ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ১০.৬ শতাংশ, অর্থাৎ জাতীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা বেড়েছে।


তৃতীয় স্থানে রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু (৭.৩%)। এরপরের তালিকায় আছেন বিহারের নীতিশ কুমার (৪.৩%), তামিলনাড়ুর এম.কে. স্ট্যালিন (৩.৮%), কেরলের পিনারাই বিজয়ন (৩%), তেলঙ্গানার রেবন্থ রেড্ডি (২.৮%) এবং উত্তরপ্রদেশের মোনন যাদব (২.৭%)। প্রতিবেশী আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নবম স্থানে রয়েছেন ২.১ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে। আর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস তালিকার দশম স্থানে (১.৭%)।
বাংলায় জনপ্রিয়তায় ধাক্কা খেলেন মমতা
যদিও জাতীয় স্তরে মমতার জনপ্রিয়তা বেড়েছে, সমীক্ষা বলছে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতায় ধস নেমেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে মমতার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ৪৬ শতাংশ, বর্তমানে তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০.১ শতাংশে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় রাজ্য প্রশাসন, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার নানা ইস্যুতে মানুষের হতাশা এই ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও এখনও বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ জাতীয় পর্যায়ে, তবুও নিজের রাজ্যে ক্রমশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।


নিজের রাজ্যে কারা সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী?
নিজ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তালিকায় শীর্ষে আছেন আসামের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর গ্রহণযোগ্যতার হার ৪৪.৬ শতাংশ, যদিও ফেব্রুয়ারিতে তা ছিল ৫৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ছত্তিশগড়ের বিষ্ণু দেও সাই (৪১.৯%)। সমান হারে তৃতীয় স্থানে আছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (৪১.৯%), যাঁর গ্রহণযোগ্যতা ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা বাড়া তাঁর জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও, পশ্চিমবঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা কমা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে বিরোধী দল বিজেপি ও কংগ্রেস-সিপিএমের জোট এই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করতে পারে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, জাতীয় রাজনীতিতে মমতা এখনও সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন, কিন্তু বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁকে আগামী দিনে আরও কড়া পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।







